নীড়পাতা খেলাধুলা অভিজ্ঞতা বনাম অনভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞতা বনাম অনভিজ্ঞতা

52
0

মোঃ সামসুল ইসলাম, (ক্রীড়া ভাষ্যকার, বেতার ও টেলিভিশন):

(হ্যামিলটনে কিউই-টাইগার্স ১ম টেষ্ট, মুশফিক-সাকিবের অনুপস্থিতি, ইমরুল অবহেলিত, টেষ্ট টেম্পারামেন্টের ঘাড়তি, টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় অদুরদর্শিতা। ১ম দিন শেষে স্কোরঃ টস- নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ২৩৪।তামিম ১২৬, ওয়াগনার ৫/৪৭, সাউদি ৩/৭৬, নিউজিল্যান্ড ৮৬/০। রাভাল ৫১*, লাথাম ৩৫*)

ক্রিকেটের তিনটি সংস্করণের মধ্যে টেষ্টে অভিজ্ঞতা, টেম্পারামেন্ট, যোগ্যতা এবং সামর্থ্যের প্রয়োগ খুব বেশী জরুরী। অথচ ঠিক এই জায়গাগুলোতে এবারের নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম টেষ্টে আমরা অনেকটাই ব্যাকফুটে থেকে ৩ ম্যাচের (৪র্থ)টেষ্ট সিরিজ শুরু করালাম। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ টপঅর্ডারে দুটি মাঝারি পার্টনারশিপ হলেও মিডিল অর্ডারে কেউ দাঁড়াতে পারলোনা। তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে গেল সকল প্রতিরোধ।

ইনজুরির কারনে সাকিব-মুশফিক নেই, আর অমনি মিডল অর্ডার চিদ্র হয়ে গেল! আসলে টেষ্টে এমনই হয়। এখানে অভিজ্ঞতা ছাড়া বিরুদ্ধ কন্ডিশনে পরিস্থিতি সামলে নেয়া ভীষণ কঠিন। এরফলে টানা ৪র্থ ইনিংসেও (ওয়ানডের ৩টি এবং আজকেরটি সহ) একই রকম বিবর্ণ আমাদের ব্যাটিং।

ক্রিকেট পরিসংখ্যান নির্ভর খেলা, এখানে পরিসংখ্যান নিয়ে নিয়মিতই চর্চা এবং বিশ্লেষণ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আমার মনের মধ্যেও কিছু পরিসংখ্যান ক্রমাগত খোঁচা দিতে থাকলো। ফলস্বরুপ বেরিয়ে এলো এই কলাম। নিন্দুকেরা হয়তো বলবে ক্রিকেটে বর্তমান ফর্ম মুল বিবেচ্য বিষয়। আমি তা জানি এবং মানিও বটে। কিন্তু বর্তমান স্কোয়াডের কার কি ফর্ম তা আমরা বেশ ভালই জানি। তারপরেও পরিসংখ্যানের পাতা থেকে তুলে আনতে চাই বেশকিছু বিষয়, যা দেখে আপনিও মেনে নেবেন যে, শক্তিমত্তায় এতোটা পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জেতা দুরের কথা ন্যুনতম লড়াইটাও করা যায়না। মিরাকেল কিঝু হলে ওডিআই বা টি/২০ জেতা যায়, কিন্তু এই খর্বশক্তির অনভিজ্ঞ দল নিয়ে টেষ্টে আপনি ড্র কিম্বা জয় কিছুই পাবেননা। সুতরাং খেলার আগেই আমরা হেরে যাচ্ছি, পাশাপাশি যোগ্যতা ও দক্ষতার অভাব, টেষ্ট টেম্পারামেন্টের অভাব, দুর্বল মানষিকতা- সবমিলিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে। এবারো খালি হাতেই ফিরছি আমরা, তা বলাই বাহুল্য।
দেখুন পরিসংখ্যান কি বলছে, আজকের একাদশে খেলা বাংলাদেশের খেলোয়াড়গণ ১৯৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ১১০৮৩ রান। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের একাদশের খেলোয়াড়গণ খেলেছেন ৪৯০ ম্যাচ, রান করেছেন ২৪০০৩। কিউই যে ৫জন বোলার বল করেছেন তারা মোট ১৮৫ ম্যাচ থেকে ৬৬৩ টি উইকেট নিয়েছে। আর আমাদের যে ৫ জন বোলার বল করছেন, তারা ৩৯ ম্যাচ থেকে উইকেট পেয়েছেন ৯৩টি। নিউজিল্যান্ড ১৯৩০ সাল থেকে এঅব্দি খেলছে ৪৩২ টেষ্ট, যেখানে ৯৫ টি জয়, ১৭১ টি পরাজয় এবং ১৬৫ টি ড্র আছে তাদের ঝুলিতে। আর বাংলাদেশ খেলছে ২০০০ সাল থেকে, যেখানে ১১৩ ম্যাচে ১৩ টি জয়, ৮৩টি পরাজয় এবং ১৬টি ড্র আছে আমাদের ঝুলিতে। সুতরাং আমরা অভিজ্ঞতায় যোজন যোজন পিছিয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে টেষ্টে বাংলাদেশের নিয়মিত ৫ জন খেলোয়াড় হলেন- তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদুল্লা এবং মুমিনুল। এরা ৫ জন একত্রে ২৫৬ ম্যাচে করেছেন ১৬৯৪২ রান। এখানে একসাথে সাকিব মুশফিকের অনুপস্থিতি বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারকে দুর্বল করে দিয়েছে। সৌম্য এবং মিথুন দুজনই অনভিজ্ঞ। সৌম্যকে কোন বিবেচনায় টেষ্ট ম্যাচে সুযোগ দেয়া হচ্ছে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন! অথচ ইনফর্ম সাব্বির ৭/৮ নম্বরে অনেক বেটার চয়েস হতে পারতো। এখানে ইমরুলকে (৩৭ টেষ্ট) চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। সাকিবের অনুপস্থিতিতে একজন খেলোয়াড় নেয়ার সুযোগ এমনিতেই ছিল। সেক্ষেত্রে ইমরুলকে তার টেষ্ট টেম্পারামেন্ট এবং অভিজ্ঞতার কারনে এগিয়ে রাখা যেত।

আমরা টেষ্ট ম্যাচকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি, কি ধরনের পরিকল্পনা করছি এবং সেলক্ষ্যে কতটুকু প্রস্তুতি নিতে পারছি সেটা মুল্যায়ন করার সময় হয়েছে। এভাবে বিদেশের মাটিতে গিছে নিয়মিত ধবল ধোলাই হতে খাকলে তার প্রভাব আসন্ন বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে ফরম্যাটের খেলায়ও পড়বে। সুতরাং বিসিবি এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে আরো দুরদর্শিতাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন চাই। ফরম্যাট ভেদে কিছু স্পেশালিষ্ট প্লেয়ার তৈরী করার সময় এসেছে। সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ম্যানেজমেন্টকে। অন্যথায় এধরণের সফর থেকে সাব্বির, তামিমের ২টি সেঞ্চুরী কিম্বা মিথুনের ২টি ফিফটির মতো কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছাড়া আর কিছুই পাবনা আমরা। এমনটি চলতে থাকলে এজাতীয় বিদেশ সফরকে পিকনিক ট্যুর ছাড়া আর কিইবা বলার থাকবে।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন