নীড়পাতা প্রবাসের সেতুবন্ধন এক সহযোদ্ধার মানবিকতার গল্প – শামীম আহমেদ

এক সহযোদ্ধার মানবিকতার গল্প – শামীম আহমেদ

এক সহযোদ্ধার মানবিকতার গল্প।

‘কোভিড-১৯’ বা নভেল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন মনে করিনা। ইতিমধ্যে ছোট, বড় সবার সাথে পরিচিত হয়ে আছে এই ভাইরাসটি। এই একটি ভাইরাস তটস্থ করে রেখেছে গোটা বিশ্বকে। এর দাপটে প্রতিটা জনপদ আতংকের উপত্যাকা হয়ে উঠছে।সোশ্যাল ডিসট্যান্স, লক ডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন, পিপিই প্রভৃতি শব্দের সাথে আমরা পরিচিত হয়ে আছি কোভিড-১৯ এর জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বর্তমানে মহাসংকট কালও অতিক্রম করছে বাংলাদেশের মানুষ। এখানকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষেরা অনেকটাই অসহায় হয়ে চরম দুঃসময় পার করছেন।দিন আনি দিন খাই মানুষগুলোরসামান্য রোজগারের সংস্থানটুকুও যে আর নেই। ভাইরাসের এই মহাসংকট কালের প্রভাব আমাদের বিয়ানীবাজারেও পড়েছে।পঞ্চখন্ডের এই জনপদে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও হতদরিদ্রদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যাক্তিবর্গ। তাদের এই মানবতার কল্যাণকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ। যাহা ইতিমধ্যে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি।কোভিড-১৯ এর সবচেয়ে ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে সোশ্যাল ডিন্সট্যান্স। যার অর্থ সামাজিক বা শারিরীক দুরত্বকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু সামাজিক বা শারিরীক দুরত্ব মানেই যে মানসিক বিচ্ছিন্নতা নয়, সেটাই প্রমাণ করেছেন এক সময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কানাডা প্রবাসী আহবাব হোসেন সাজু। মনের ভেতরে যদি মহানুভবতার বীজ বোপন থাকে, সেটা যে কোন বয়সেই বিশাল থাকে। আমরা যেখানে আগামী দিনের আর্থ-সামাজিক মন্দাভাবের ভয়াবহতার আশংকায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি, সেখানে এই তরুণ নিজের পরিশ্রমের অর্থে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে অসহায়,হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণ করে যাচ্ছেন। নিজের পাড়া প্রতিবেশী, এলাকার স্বজন, দারিদ্র্য, অসহায় মানুষের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ থেকে স্বার্থপরতা ত্যাগ করে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন অকাতরে। প্রায় চৌদ্দ বছর ছাত্রলীগের একজন কর্মি ছিলাম। এই ছোট জীবনের পরিসরে, নিজের পকেটের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য, অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষের সাহাযার্তে তার মতো এতোটা নিবেদিত হতে সাবেক কোন ছাত্রনেতাকে আমি দেখিনি। ছাত্রনেতা থাকার সময়ও সে মায়ের চিকিৎসার জন্য অসহায় ছেলেকে সাহায্য, মেয়ের বিয়ের জন্য অসহায় পিতাকে সাহায্য করেছিল। এই মহানুভবতার কাল সাক্ষী হয়ে আছি আমি, এবং স্পেন প্রবাসী জসিম উদ্দিন।
পৌরসভার প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে তিনি তার মানবতার হাত বাড়িয়েছেন,শুধু ১ং ওয়ার্ড ছাড়া। ঈদের জন্য স্বগিত ছিল।অচিরেই এই ওয়ার্ডের অসহায় মানুষদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেয়া হবে। এর মধ্যে তিনি তার নিজস্ব ওয়ার্ড, ৮নং ওয়ার্ডে মোট ১লক্ষ ষাট হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী উপহার, ৯নং ওয়ার্ডে পঞ্চান্ন হাজার, ৭নং ওয়ার্ডে মোট এক লক্ষ চল্লিশ হাজার, ৬নং ওয়ার্ডে পয়তাল্লিশ হাজার, ৫নং ওয়ার্ডে পয়ষট্টি হাজার, ৪নং ওয়ার্ডে পঞ্চান্ন হাজার,৩নং ওয়ার্ডের তথ্য সঠিক জানা নেই এবং ২নং ওয়ার্ডে তিনি বিশ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী উপহার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তির মাধ্যমে পৌছে দিয়েছেন হত-দরিদ্রের মাঝে। (এই সব তথ্য আহবাব হোসেন সাজুর কাছ থেকে নেয়া)
এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও সামাজিক সংগঠনকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা সাহাযা দিয়েছেন।এই জরিপ দেখে হয়তো অনেকে কানাঘুষা করবেন, কিছু একটা হওয়ার জন্য তিনি বোধহয় এসব করছেন। কি হবেন, না হবেন সেটা হয়তো এখনো অদুর ভবিষ্যৎ। ভাইরাসের আতংকের জনপদে তিনি যে মানবতা দেখিয়ে যাচ্ছেন, সেটা নিঃসন্দেহে মহৎ এবং প্রশংসনীয়।
বিপর্যস্ত এই বাংলাদেশে এভাবেই মানবতার গল্প বুনছেন আহবাব হোসেন সাজুরা।তাদের হাত ধরেই লেখা হচ্ছে মানবতার নতুন ইতিহাস।আর এভবেই হাতে হাত রেখে আমরা এই কঠিন সময় পার করে দিতে পারবো। ইন-শা-আল্লাহ।

শামীম আহমেদ।
সাবেক সহ-সাধারন সম্পাদক, বি/বা পৌর ছাত্রলীগ।
ধর্ম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, ছাত্র সংসদ ২০০০।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন