নীড়পাতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এ যেন এক টুকরো সিলেটের প্রতিচ্ছবি

এ যেন এক টুকরো সিলেটের প্রতিচ্ছবি

32
0

কামরুল ইসলাম মাহি: সুরমা নদীর ওপর স্থাপিত ক্বীনব্রিজ। নদীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি। এমন ছোট-বড় দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে সৃজনশীল বইয়ের প্রতিষ্ঠান বাতিঘর। এ যেন সিলেটের ভিতরেই আরেক টুকরো সিলেটের প্রতিচ্ছবি।

ঢাকা ও চট্রগ্রামরে পর এবার সিলেটেও যাত্রা শুরু করেছে সৃজনশীল বইয়ের এ প্রতিষ্ঠানটি। সিলেট নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় বিশাল জায়গাজুড়ে নিজেদের সিলেট শাখা চালু করেছে বাতিঘর।

No photo description available.

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) থেকে পাঠকদের জন্য বাতিঘর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জানান বাতিঘর’র কর্মকর্তা লিংকন দাশ। শুরুদিন থেকেই পাঠকরা ভিড় করছে এই লাইব্রেরিতে। সৃজনশীল বইয়ের সংগ্রহশালার পাশাপাশি বাতিঘরের সাজসজ্জাও নজর কাড়ছে সিলেটের পাঠক দর্শনার্থীদের।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরে নতুন চালু হওয়া বইয়ের দোকান বাতিঘর-এ গিয়ে দেখা গেল- নানা ধরনের বিষয়ের বইয়ের সমাহার রয়েছে বাতিঘরে। সিলেটি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি কর্নার, ক্যাফে কর্নারসহ বেশ কিছু কর্নার রয়েছে।

নির্বাচিত লেখক, শিশু–কিশোর কর্নার, প্রকাশনা সংস্থার কর্নারের পাশাপাশি এখানে সিলেটে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বিষয়ের উপর একটি কর্নার আছে। শিগগিরই বাতিঘরের নামফলক বাংলার পাশাপাশি সিলেটের নাগরী লিপি দিয়েও লিখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য খোলা থাকবে বাতিঘর। দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার লেখকের নানা ধরনের বই পাওয়া যাবে এই প্রতিষ্ঠানে।

রাফি আদনান নামে এক শিক্ষার্থী তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বাতিঘরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বাতিঘরের কালেকশন অনেক ভাল। বই কিনতে এসে এখান থেকে কেউ খালি হাতে ফিরবেন না। আমি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই আজ এসেছি। এর আগে চট্রগ্রামের বাতিঘর থেকেও বই কিনেছিলাম।’

রিজু মিয়া নামে আরেক বইপ্রেমী বলেন, ‘সিলেটে সুন্দর পরিবেশে বড় পরিসরে বই কেনার মত প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আমরা সাধারণত বইয়ের দোকানে গিয়ে বিক্রেতাকে বইয়ের নাম বলে বই কিনি। এভাবে পড়ে বই কেনার সুযোগ সিলেটের খুবই কম। এক্ষেত্রে বাতিঘরকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয়েছে আমার কাছে।’

সিলেট বাতিঘরের দায়িত্বরত লিংকন দাশ বলেন, ‘যথেষ্ট উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আসছেন সবাই। বই কিনছেন ছবি তুলছেন সমানতালে। বাতিঘরে এসে ক্রেতা, দর্শনার্থী সবারই উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করেছি এই দুইদিনে। আশা করছি বাতিঘরের সিলেটের যাত্রা ভাল হবে।’

বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বাতিঘরের শাখা করি। সিলেটে বই পড়ার অনেক মানুষ আছেন। সিলেটের বেশ কয়েকজন মানুষ এখানে শাখা করার জন্য বলেন। এছাড়া আমি মনে করি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি মানসম্মত বইয়ের দোকান থাকা প্রয়োজন। তাই সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে বাতিঘর।’

এসময় বই বিপণনে নতুনত্ব এনে দেশজুড়ে পাঠকসমাজ গড়ে তোলাই তারঁ লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

সূত্রঃ জাগো সিলেট নিউজ।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন