নীড়পাতা সংস্কৃতি করোনা অবরোধের কবিতা

করোনা অবরোধের কবিতা

সম্ভাবনা ডেস্ক:

বীজ

ভুতুড়ে, আতঙ্কে কাটানো দিন-রাত
বিমুখ প্রকৃতির নীরবতায়
আমরা মৃতপ্রায়, অথবা জাতিস্মরের সাথে
এক হতে অপেক্ষা করছি
ক্লিনিক-পৃথিবীর বারান্দায়
কখন যে শবেই রূপান্তরিত হব
এ আশঙ্কায় একদিন বেঁচে থাকা
দিনটি পার করতে ঘরে বসে থাকা
অসহায়,

এ কোন প্রতিশোধ নেমে এল
খুব ধীরে নীরবে প্রাণ নিতে
তৈরি হয়ে আসে যমদূত
পূর্বপত্র ছাড়াই
বিশ্রাম সংস্করণে নতুন উপনিবেশ

সময় ও ঘটনার পরম্পরায় নিদানের কালে
হিম মরদেহ
অস্থির পৃথিবী, কেউ কারও কাছে নেই
নিজেই বহন করে চলেছি নিজেরই শব

কার জন্য কে রাখে সঞ্চয়
অপেক্ষার প্রহরে নামে আঁধার
অবশেষে, তবুও রোদালো একটি দিন
কোনো এক বসন্তের গান
কোকিলের কণ্ঠস্বর আর
প্রাণের মতো চেরি ফুলের বাগান
রক্তজবার প্রাগৈতিহাসিক বীজ দেখব বলে
আজও বেঁচে থাকা।


নিরর্থক গাণিতিক

রুশোতত্ত্বের চেহারা বদল
যান্ত্রিক বড়শির টোপ গিলেছে আসল নকল
যন্ত্রসন্ত্রাসের ঝাঁপিতে ডুব
তবুও হেঁটে এসেছি ছ শ কোটি বছর
অ্যামিবার মায়া নিয়ে মানুষই থেকেছি

নোঙর হলো ভার্চুয়াল নদীর মোহনায়
তারে-ইথারে স্বপ্ন বয়ে যায় গোপন প্রতিবেদনে
শুধু স্বপ্ন দেখে নরম কঙ্কাল
না-মানুষ, না-প্রাণী, না-বৃক্ষ
মাইকেলেঞ্জেলোর পাথরগুলো
নিষ্প্রাণ হতে থাকে

জঙ্গলের ছাউনিতে জলের আলপনা ছিল একদিন
শ্রাবণের পরব ছিল গানে, ঝুমুর নাচে
পাতার বাঁশিতে করুণ সুর শান্ত নদীর স্রোতে
নীল ঢেউ, পাহাড়ি ললনার যৌবনের কসরতে
এই জুমধান

পায়ের আঙুল কেটে লাফ দিয়ে মহাকাশ অভিযান
আর কতদূর যাবে যন্ত্রযান, ট্রাফিকে সাজানো গতি
কতদূর ধাবমান তুমি আমি
রিটাকষের মাখন গায়ে পিচ্ছিল শাবক
উড়ে আসে সাইবেরিয়ার পরিযায়ী স্বজন
উদ্বাস্তু সকলেই রথযাত্রার অবশেষ খুঁজে

উপপাদ্যে ফেরার পালা ইমারত ছেড়ে
সকলের মুখে শুধু বিচ্ছিন্ন আকুতি:
কিম্ভূত অন্তর্বাসে আব্রু লুকানোর তাড়া
বেদনার কুঁড়েঘর, তবুও নিঃশ্বাস ফেলি
হাতটা ধরি, স্পর্শ করি, আবার অবিকল হই;
যা ছিলাম কোটি বছর আগে;
শব্দ নিরর্থক
দৃষ্টিশূন্য সমাধি-প্রাঙ্গণে বলি : ভালোবাসি
নৈঃসঙ্গ্যবাচন!


সাফারি

দীর্ঘ হচ্ছে বিষাদের ছায়া
দেউল থেকে ছায়ার দূরত্ব
কমে যাচ্ছে নীরবে
দেয়ালের নিষ্প্রয়োজন
হাওরের বাউরি বাতাস কাছে নিচ্ছে
হিজল করচের নীলাভ রোদ

নোটিশবিহীন খাঁচায় ভেতরে কান্দন
ফুসফুসের উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে
পিঞ্জর শূন্য করে
বারামে নিজেই বন্দি স্বেচ্ছায়;

বনসমাজ জল ছিটিয়ে দিচ্ছে
টিকেটহীন কাউন্টার খুলে বসেছে হাট
নতুন ইকোসিস্টেম
বন্ধ কার্বন নিঃসরণ
আনন্দময় বনজবিদ্যা

পাশ দিয়ে ঝাপটায় মরণদিশা
ঠারে ভালোবাসার নতুন তত্ত্বে
শাক্তশাস্ত্রের পদাবলি
অনিশ্চিতির বন্দনা।


সৎকার

কাছে যেতে পারি না
এ শবদেহ বড় অস্পৃশ্য এখন
আলগা সংকেতে নিজের কাছেই পরবাসী
কী যেন গন্ধ শুঁকে নিচ্ছে, মৌমাছি আদর দিচ্ছে
শুধু মানুষ ভিড়ছে না কাছে
লুকিয়ে দেখা অতীতের বিভ্রম

কান্না চেপে রেখে উল্টো সন্দেহে বাস
শেষবারের মতো স্পর্শ শুধুই নিঃশ্বাস
চোখ খোলা আকাশের দিকে, অপেক্ষা করছে
জ্বল জ্বল করছে কেউ আসবে, তাঁকে শেষ চুম্বনে
জানাবে অভিবাদন
কেউ নেই, মিউ মিউ স্বর

ইচ্ছে ছিল যেভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর দিত
কান্না পেলে আবদার পুরণে অস্থির হতো
যাবার বেলা আমরাও তার মাথায় একটু আদর দেবো,
হলো না;
আমরা ফিরে গেলাম, আর আসব না
হয়তো এ বাড়িটি দখল হবে, আগুন জ্বালানো হবে
পুড়িয়ে রোগমুক্ত করবে গোটা পাড়া
জানি না এমন সখ আছে কারো কারো
সুখে থাকুক, ভালো থাকুক, নিরাপদ থাকুক সকলে
মৃতের ভুতুড়ে অসুখ হয় নি, নিছক ব্যারাম

এই অজুহাতে সবাই সুখী হোক
মরণদাগ মুছে গেলে আবার ফিরে আসব
পাখির পালকে ছায়া হয়ে।


ঐক্য

ভাসানে বিরূপ বিশ্বে সমষ্টি পত্তন
আজও একই আছি, বিপদে সমব্যথী হই
সুখী হই পরম মমতায়, ভালোবেসে
ভাষায় বলেছি সুখ
ভাষায় ভেবেছি দুঃখ

একসাথে মিলি উৎসবে
একসাথে থাকি বিপ্লবে
একসাথে মিলি পার্বণে
হাত না ধরে চলি পাশাপাশি
বিপরীতে চলা আগামীর কাছে

পৃথিবীর পাঁজরে অসুখ হয়েছে
আলোতে আঁধার ফেলে টোলা বিষকেতু
মরণতৃষায় ভাগ করে দিল বিটলা শত্রু
বিভাজনেও যৌগ থাকি আদিমঙ্গল সেতু

দূরে থাকি ভয় নেই বন্ধু, দূরে থেকে চলি দ্বিধাহীন
দহনের রাত ফুরাবে একদিন মানুষের জয় যেখানে উড্ডীন।


মানবগুণে বাঁচি

উঁকি দিয়ে দিগন্ত দেখি, সীমারেখা টানা চোখ
পরান হারাচ্ছে জীবনের বাঁকে
পাথরের ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে চেনামুখ

পথ নেমে যাচ্ছে গর্তে, জানা নেই গর্তের সীমা
ঢেউখেলানো জমিন আগেও দেখেছি এখন খুব অচেনা

জমানো স্বপ্নের শোলা, কালের পাণ্ডুলিপি
রাখি হৃদয়জ কুটিরে
কোথা হতে তেড়ে আসে ঝড় ভাঙে শান্ত তন্দ্রার ঘোর
এ দানব ঝড় দেখি নি কখনও
একে একে যাচ্ছে নিভে চোখের বাতি
রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সব প্রাণের স্বরলিপি

এসো মিলি পরস্পর আবার প্রাণের দাবিতে
যাবার আগে একবার জাগি
মানবগুণে মানুষ বাঁচি।

সুত্রঃ পরস্পর।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন