নীড়পাতা খেলাধুলা ক্রীড়া শিক্ষার পাঠশালা

ক্রীড়া শিক্ষার পাঠশালা

11
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) অবদান অপরিসীম। ক্রিকেট, ফুটবল, হকিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব খেলাতেই কর্তৃত্ব করছে এই প্রতিষ্ঠানে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরাই। বিভিন্ন পর্যায়ের সফল ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে ও বিকেএসপি ঘুরে এসে লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ

‘বিকেএসপি একজন কিশোর বা শিক্ষার্থীর জীবন গড়ে দেওয়ার জন্য বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় একটা অংশ দখল করে আছে বিকেএসপি’ কথাটা যিনি বলছেন তিনি মামুন উর রশিদ।

যার সবচেয়ে বড় পরিচয় জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক।

বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন মামুন উর রশিদ। সেখান থেকে জাতীয় দলে খেলেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে। এখন কোচ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। নিজের প্রতিষ্ঠানের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার জন্য পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরদারে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোয় বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের তালিকাটা বেশ লম্বা। এই সময়ের জাতীয় ক্রিকেট দলের কথাই ধরা যাক।

মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাসরা বিকেএসপির ‘প্রডাক্ট’। ফুটবলে হাসান আল মামুন, মাসুদ রানা, মামুনুল ইসলামরা উঠে এসেছেন বিকেএসপিতে। হকির রাসেল মাহমুদ জিমি, মামুনুর রহমান চয়ন বিকেএসপিতে থেকে উঠে এসেই দেশের সেরা খেলোয়াড়। দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত এসএ গেমসে প্রথম নারী সাঁতারু হিসেবে স্বর্ণ জেতা মাহফুজা খাতুন শীলাও বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন। শুটিংয়ে আসিফ হোসেন খানের মতো আবদুল্লাহ হেল বাকীর নামও আসবে। সদ্যই জাতীয় অ্যাথলেটিকসে টানা ১০ বার দ্রুততম মানবীর খেতার জেতা নৌবাহিনীর অ্যাথলেট শিরিন আক্তারেরও বেড়ে ওঠা বিকেএসপিতে।

মামুন উর রশিদের কথাতেই তাই ফিরতে হয়, ‘সব গেমসেই দেখবেন বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের আধিপত্য। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, শুটিং…। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন আধিপত্য বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের। আমি যেহেতু বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম, তাই আমার জন্য এটা খুবই ভালো লাগার। ’

১৯৮৬ সালে ফুটবল এবং হকি এই দুই বিভাগে স্বল্পসংখ্যক ছাত্র নিয়ে শুরু হওয়া বিকেএসপির ব্যাপ্তি এখন অনেক বড়। অবকাঠামোতে সুবিধা অনেক বেড়েছে। মাত্র দুটি ক্রীড়া বিভাগ থেকে সংখ্যাটা এখন ১৭-তে পৌঁছেছে। সাভারের জিরানীতে ১১৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রাখলেও ভুল হবে না। যে স্থানে কখনো ঢুকলে আপনার প্রথমেই হয়তো মনে হবে ওই তো, ওই জায়গাতেই কি বন্ধুদের সঙ্গে খেলতেন সাকিব আল হাসান? মুশফিক, শীলা, বাকীদের কথাগুলো আপনার মনে হবে। একই সঙ্গে উদয়নের পথে থাকা কিশোর-কিশোরীদের মুখটাও আপনার চিনে নিতে মন চাইবে। কে বলতে পারে, আপনার সামনে থাকা ছোট্ট কিশোরটাই হয়তো বছর দুয়েকের মধ্যে চলে আসবে দৃশ্যে।

এই যেমন আফিফ হোসেন ধ্রুব, আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের কথাই ধরুন। খুব বেশিদিন হয়নি বিকেএসপি থেকে বেরিয়েছেন। অথচ দেশের ক্রিকেটে এখন আলোচিত নাম তারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিকেএসপি থেকেই সদ্য এইচএসপি পাস করা আকবর আলী। মুশফিকুর রহিমের মতোই উইকেটরক্ষক তিনি। কে জানে একদিন মুশফিকেরই হয়তো উত্তরসূরি হবেন তিনি।

বিকেএসপি তাই হাজারো কিশোর-তরুণের স্বপ্নের ঠিকানা। যেখানে ভর্তি হতে পারা মানে স্বপ্ন সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখা। শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী তো গর্বের প্রতিষ্ঠান নিয়ে এভাবেই বলেন বিকেএসপির কোনো বিকল্প নেই, ‘আমার জীবনে বিকেএসপির অবদানই সব থেকে বেশি। বাইরের যত ক্লাব দেখেন সব থেকে সুযোগ-সুবিধা বেশি বিকেএসপির। এমন অনেক কিছু আছে যা হয়তো ফেডারেশনেও নেই। ভালো ভালো কিছু কোচ আছেন সেখানে। বিদেশি কোচের অধীনেও বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জাতীয় দলে এখন যারা আসছে দেখবেন ৮০ শতাংশ বিকেএসপির। তাই বিকেএসপির কোনো বিকল্প নেই। ’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক হাসান আল মামুন নিজের জীবনে বিকেএসপির অবদানের কথা বলতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে তুলনা করলেন প্রতিষ্ঠানটিকে। তৃতীয় ব্যাচের এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিকেএসপি আমার মায়ের মতো। কারণ বিকেএসপি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এটা সত্য যে, বিকেএসপিতে ভর্তি হতে না পারলে আমি হয়তো খেলোয়াড়ই হতে পারতাম না। ’ অথচ হাসান আল মামুন এক সময় দেশের সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে।

২০১৬ এসএ গেমসে জোড়া স্বর্ণজয়ী মাহফুজা খাতুন শীলা এখনো ভুলতে পারেন না বিকেএসপিতে ফেলে আসা স্মৃতিগুলো, ‘আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অবদান বিকেএসপির। ছয় বছর আমি ওখানে ট্রেনিং পেয়েছি। ডিসিপ্লিনের মধ্যে বড় হয়েছি। সেখান থেকে এইচএসপি পাস করেছি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) পড়তে পেরেছি। ওইখানে ভালোভাবে প্র্যাকটিস করেছি বলেই সাফ গেমসের মতো জায়গায় আসতে পেরেছি। বিকেএসপির অবদান ভোলার না। ’

শীলা বলে যান, ‘যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন বিকেএপিতে ভর্তি হই। তারা আমাকে প্রথমে ট্রেনিংয়ের সুযোগ দেন। সেখানে আড়াই মাস ট্রেনিং করে জাতীয় রেকর্ড ভেঙে জুনিয়র প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পাই। বিকেএসপির মান কেমন হলে মাত্র আড়াই মাসের ট্রেনিংয়ে জাতীয় রেকর্ড ভাঙা যায় এটা বোধহয় আর বলতে হবে না। এবং ওই বছরই জাতীয় প্রতিযোগিতাতেও আমি স্বর্ণ জয় করি। একজন খেলোয়াড়ের জন্য যা যা দরকার তার সবই বিকেএসপিতে আছে। যদি কোনো খেলোয়াড় তার সৎ ব্যবহার করতে পারে তবে নিশ্চিতভাবেই সে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে বের হবে। ’

এখন অভিভাবকরাও তাই ছেলেমেয়েদের ভালো প্রতিষ্ঠানে দিতে চাইলে বিকেএসপিকে ভাবনায় রাখেন। মামুন উর রশিদ যেমন বলছিলেন, ‘এখন সবাই চিন্তা করে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে পারলে ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নিতে পারবে। বিকেএসপি এমন একটা প্রতিষ্ঠান যেখানে শুধু খেলাধুলা নয়, পড়াশোনা, নৈতিকতাকেও বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে কারণে বিকেএসপিতে যেটা আমরা শিখেছি সেটা বাস্তব জীবনে ব্যবহার করি। ’ মামুন যোগ করেন, ‘আরেকটা জিনিস যেটা হচ্ছে বিকেএসপির ছাত্ররা সৌজন্য জানে। খেলার বাইরেও জীবনটা গড়ার চিন্তা করে। ’

একই প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ হেল বাকী বলছিলেন, ‘সব দিক থেকে বিকেএসপির সুযোগ-সুবিধা অন্যরকম। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় খেলার ওপর। তবে পড়াশোনাও অনেক ভালো মানের। আর সবচেয়ে বড় হচ্ছে ডিসিপ্লিন। আমাদের যে রুটিন ছিল বা থাকে, এমন রুটিন মনে হয় ক্যাডেট কলেজ ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। ডিসিপ্লিনটা স্পোর্টসম্যানদের লাইফে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সকাল থেকে রাত সারাক্ষণ কঠোর রুটিন মেনে চলতে হয়। যা একজন খেলোয়াড়ের পরবর্তী জীবনে কাজে লাগে। ’

যেভাবে তৈরি হয় আগামীর তারকা

বিকেএসপিতে ভর্তি হতে হলে যেকোনো শিক্ষার্থীকে পাড়ি দিতে হয় অনেক কঠিন ধাপ। সাধারণত প্রতি বছর ক্রীড়া বিভাগে আসন খালি সাপেক্ষে ডিসেম্বর মাসে বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও বিকেএসপির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। প্রাথমিক নির্বাচনের জন্য ভর্তিচ্ছুক প্রার্থীদেরও বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফর্ম পূরণ করে সেটির প্রিন্ট কপি নিয়ে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমেও প্রতি বছর প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এই মুহূর্তে যে ১৭ ইভেন্ট চালু রয়েছে বিকেএসপিতে, তার কোনো কোনোটিতে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া বেশিরভাগই ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হয়। অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সীরাই ভর্তি হতে পারেন। তবে অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতাও রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় তাদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া।

১৯৯৮ সাল থেকে বিকেএসপিতে কোচ হিসেবে আছেন মাসুদ হাসান। ক্রিকেট বিভাগের প্রধান কোচ জানালেন একজন ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়া, ‘কাজটা বেশ কঠিনই। ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ট্যালেন্টদের বাছাই করার চেষ্টা করা হয়। বাছাই করার পর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, যেটা কমপক্ষে ছয় বছরের। বাছাই করা একজন মেধাকে আমরা কোথায় নিতে চাই, সেভাবে টার্গেট করি। সে অনুযায়ী প্ল্যান করে আমাদের ট্রেনিং পরিচালনা করা হয়। ’

নিয়মিত অনুশীলনে নিজেদের তৈরির সঙ্গে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকে ক্রিকেটাররা। মাসুদ হাসান জানান, ‘প্রতি বছরই ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে বয়সভিত্তিক যে প্রতিযোগিতাগুলো হয় সেগুলোতে ওরা খেলছে। সেখানে ওদের পারফরম্যান্সটা বুঝতে পারছি যে কেমন পর্যায়ে যাচ্ছে। যখন অনূর্ধ্ব-১৮ বা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যন্ত খেলছে তখন বোঝা যায় ছেলেটা কোন পর্যায়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত করে বললে এভাবেই তৈরি করা হয় ক্রিকেট বিভাগের শিক্ষার্থীদের। ’

বিকেএসপির চট্টগ্রাম শাখার ছাত্র কেএম আতিকুর রহমান। সম্প্রতি ঢাকার প্রধান শাখায় এসেছিলেন একটি ম্যাচ খেলতে। শোনালেন তার স্বপ্নের কথা, ‘আমার স্বপ্ন আমি মুশফিক ভাই, লিটন ভাইয়ের মতো খেলোয়াড় হবো। উনারা উইকেটরক্ষক। আমিও উইকেটরক্ষক। একটাই স্বপ্নÑ একদিন উনাদের জায়গায় আমি খেলব। ’ বাবা-মার স্বপ্ন পূরণেই বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া এই কিশোরের, ‘বাবা-মার চাওয়ার ছিল আমি বিকেএসপিতে ভর্তি হই। দুই বছর চেষ্টা করার পর বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছি। ’

অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের ফুটবলার তানভীর হোসেন। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে হয়ে যিনি খেলছেন প্রিমিয়ার ফুটবল লিগেও। বিকেএসপির একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রের কাছের বিকেএসপি স্বপ্নপূরণের মাধ্যম, ‘অনেক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়েই বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছি। কঠোর পরিশ্রমের পর ভর্তি হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। বিকেএসপিতে ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে যেন জাতীয় দল পর্যন্ত পৌঁছতে পারি এটাই স্বপ্ন। এখানে যে সুযোগ-সুবিধা আমরা পাচ্ছি এটা দেশের আর কোথাও নেই। খেলোয়াড় তৈরির মূল জায়গা আমরা বলতে পারি বিকেএসপি। ’

ফুটবল বিভাগের কোচ ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর হক বলেন, ‘বিকেএসপির শুরুর সময় থেকেই ফুটবল ইভেন্ট ছিল। পরে বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়ে। আঞ্চলিক কেন্দ্র সিলেট, বরিশাল, খুলনাÑ তিনটা কেন্দ্রে আমাদের ফুটবলাররা আছে। সেখানে ফুটবলের যে ভিত্তির স্তর সেই পর্যায়ের ট্রেনিং দেওয়া হয়। এরপর বয়সভিত্তিক যে দলগুলো গঠন হয়, সেখান থেকেই তারা অংশগ্রহণ করে। বেশিরভাগই আমাদের বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা থাকছে। ’

হকি বিভাগের চিফ কোচ জাহিদ হোসেন রাজু তো বেশ গর্বিত এই কারণে যে, জাতীয় হকি দলের শতভাগ খেলোয়াড় এখন বিকেএসপির, ‘বাংলাদেশ হকিতে এখন যে জাতীয় দল গঠন হচ্ছে তার শতভাগই জাতীয় দলের খেলোয়াড়। বয়সভিত্তিকেও তাই। বাংলাদেশ হকি মানেই এখন বিকেএসপি। আমাদের এবার মেয়ে হকিও যোগ হচ্ছে। আশা করি মেয়েদের হকিতেও বিকেএসপি নেতৃত্ব দেবে। ’

নিজে বিকেএসপির ছাত্র ছিলেন। সেটি তাও প্রথম ব্যাচের। গর্বিত এই কোচ খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, ‘সবাই যে হকি খেলে আসে তা নয়। কারণ জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে হকি খেলা অনেক কম হয়। সাধারণত আমরা যাদের এখানে ভর্তি করি তাদের ফিজিক্যাল বিষয়গুলো দেখেই ভর্তি করা হয়। এরপর স্টিক-বলে ওদের হাতেখড়ি হয়। আমাদের জন্য একটু কষ্টের ব্যাপার হয়। তবে হকি খেলাটা মজার। ওরা যখন এটা বুঝে তখন দেখা যায় দ্রুতই সব নিতে পারছে। এবং ভালোমানের খেলোয়াড় হওয়ার জন্য নিজেদের তৈরি করে। আর আমাদের হকিতে যারা কোচ হিসেবে আছে তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও একই সঙ্গে সবাই বিকেএসপির ছাত্র। ’

বিকেএসপির কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা মুশফিকের বাবার

ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ। ছেলের কারণে বাবাও বলতে গেলে এখন তারকা। মুশফিকের খেলা হলে প্রায়ই ছুটে যান মাঠে। ঠিক একইভাবে মুশফিকের ছাত্রজীবনেও বিকেএসপিতে ছুটে যেতেন নিয়মিত। ছেলের সবকিছুরই খোঁজ রাখতেন। ক্রিকেট মস্তিষ্কও তার প্রখর। বিকেএসপিতে পড়ে ছেলে আজ প্রতিষ্ঠিত। তবে তার চাওয়া মুশফিক-সাকিবদের সংখ্যাটা যেন হয় অনেক বেশি ‘ক্রীড়াঙ্গনে বিকেএসপির অবদান অনেক। তারপরও মনে হয় এটা যথেষ্ট না। আমি তো বলব একটা টিমের ১২ জন খেলোয়াড়ের ১০ জনই বিকেএসপি থেকে আসা উচিত। কারণ সরকার ওখানে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এত সুযোগ-সুবিধা আর কোথাও নেই। তো সেখানে চার-পাঁচ বছর বাচ্চাদের রাখার পরও কেন এক নম্বর বের হবে না। ’

সূত্রঃ দেশ রূপান্তর।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন