নীড়পাতা সকল বিভাগ উপসম্পাদকীয় গণ পরিবহন ব্যবস্থা শোধরাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে

গণ পরিবহন ব্যবস্থা শোধরাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে

55
0

মোঃ সামসুল ইসলাম

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ শীর্ষক চলমান ছাত্র আন্দোলনের ৮ম দিন চলছে আজ। গত ১ আগষ্ট একই বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলনের উদ্যোগকে প্রসংশা করে লিখেছিলাম এবং গণ পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কারে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা্ও তুলে ধরেছিলাম।
গত কদিন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। আজ আবার একই বিষয়ে লিখতে তাড়িত হলাম। স্বতস্ফুর্তভাবেই রাজধানী ঢাকা্ এবং দেশের বিভিন্ন শহরের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছে। প্রস্তাবিত নয়টি দাবী সব মহলেই যৌক্তিক বলে গৃহিত হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল দাবীগুলো মেনে নিয়ে দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আন্দোলন থামেনি বরং নানাবিধ কারনে তা আরো বেগবান হয়েছে এবং চলমান আন্দোলন বিভিন্নমুখী রুপ ধারণ করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কবি গুরুর ভাষায় বলতে হয়-
‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’
উদ্ভুত পরিস্তিতিতে তরুণ ছাত্র সমাজ পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়ে, আমাদের উজ্জিবিত এবং সাহসী করে তুলেছে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ এবং সচেতন করেছে। নাগরিক অধিকার আদায়ে কিভাবে এগিয়ে আসতে হয়, তা তারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আমার মনে হয় সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে যে মেসেজ দেবার প্রয়োজন ছিল, তা গত কয়েকদিনে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে, গণ পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার করতে এবং এসেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যেসকল সংস্কার/আইন করা প্রয়োজন তার সবগুলোই গত কদিনের নাগরিক সমাজের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে। ধৈর্য্য, আন্তরিকতা, সাহস নিয়ে এই সংস্কারগুলো সম্ভব দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে পরিস্থিতি অনেকটাই সহনশীল হবে বলেই আমার বিশ্বাস।
হাসিমুখেই প্রথম দুদিন/তিনদিন আমরা এই দুর্ভোগ সয়েছি, এখন আর পারছিনা। এটা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের যে ভালবাসা এবং সমর্থন তোমরা আদায় করেছিলে, তা এখন ক্রমাগত হারাতে শুরু করেছে। কুটিল জটিল এবং সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা একে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ফায়দা লুটে নিতে মাঠে নেমেছে। তাই তোমাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ এসো এবার আমরা ঘরে/ক্লাসে ফিরে যাই। যাদের কাজ তাদেরকেই করতে দেই। আমরা সংশ্লিষ্ট মহলকে প্রয়োজনীয় সময়টুকু দেই, যাতে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারেন।
বলছিলাম জনদুর্ভোগের কথা, রাজধানী ঢাকার সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হ্ওয়ায় পুরো দেশজুড়েই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং পড়বে। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, কোরবানীর পশু আসতে পারছেনা, ব্যবসা-বানিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে, ঢাকায় অফিসগামী মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, তোমাদের ক্লাশ-পরীক্ষা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ফলে তোমরা একাডেমিক্যালি পিছিয়ে পড়ছো, দৃশ্যমান/অদৃশ্য আরো নানাবিধ সমস্যা ইতিমধ্যে তৈরী হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা নাইবা বললাম। একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে আরো একাধিক সমস্যা যেন আমরা নিজেরা তৈরী করে না ফেলি, সেদিকে নজর রাখাও কিন্তু আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সুতরাং যথেষ্ট হয়েছে, এবার চলো ঘরে ফিরি। অপেক্ষা করি ভাল কিছুর জন্য।

লিখেছেন: 

মোঃ সামসুল ইসলাম, ক্রীড়া ভাষ্যকার

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন