নীড়পাতা ফিচারড জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন

জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন

14
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

২৬ মার্চ বাঙালির মহান স্বাধীনতা দিবস। এদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। তবে স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য আমাদের নয় মাস লড়াই করতে হয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলাম। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার। বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের কাজেও শরিক হতে পেরেছিলাম।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তৎকালীন ইপিআরের ট্রান্সমিটারে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়।

ঘোষণাটি ছিল এরকম : এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

এর আগে ৭ মার্চের ভাষণেই বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। আসন্ন যুদ্ধের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো; মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।

বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রকণ্ঠ আজও কাঁপন ধরায় বাঙালির রক্তে। আলোড়ন তোলা সেই আহ্বানের জন্যই যেন বাঙালি জাতি অধীর অপেক্ষায় ছিল। বিদ্যুৎ বেগে সেই আহ্বান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগানে স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।

স্বাধীনতা যে কোনো জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও তা এক মহাসত্য। এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছে রক্তস্নাত পথ ধরে। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষকে আত্মোৎসর্গ করতে হয়েছে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারা রাতের আঁধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর।

শুরু হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে ২৬ মার্চের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ডাক দেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। আর এর মাধ্যমেই অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহিমান্বিত বিজয়।

মহান স্বাধীনতার দিনে আমরা স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং পাকিস্তানি হানাদারদের দ্বারা নিগৃহীত দুই লাখ মা-বোনকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু-সুহৃদ বিদেশি বন্ধুদের।

শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে, যার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে বিশ্বের জনমত পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং বাংলাদেশের পক্ষে এসেছিল। দলমত নির্বিশেষে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন ও সহায়তা করায় আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

সূত্রঃ যুগান্তর।

 

 

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন