নীড়পাতা খেলাধুলা ট্রফিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ট্রফিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

18
0

মো: সামসুল ইসলাম

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে ঘরের মাঠে ধারাবাহিকভাবেই ভাল করছিল। মুলত ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই দলটি বেশ ধারাবাহিক। কিন্তু সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে যে ভরাডুবি, ইনজুরি এবং ট্রমাটিক (মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার কারনে)পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের ক্রিকেটারদের, তা ছিল সত্যিই এক কঠিন সময়।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে অনুশীলন ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভস দলের কাছে যেভাবে হেরে গেল, তাতে ভয় আর শংকা বাড়ছিল সমর্থকদের। কিন্তু সব শংকাকে পিছনে ফেলে – যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনায় মাশরাফি বাহিনী যেভাবে খেললেন প্রতিটি ম্যাচ এবং ইতিবাচক ফলাফলে জিতলেন, তা চরম পেশাদারিত্ব ছাড়া অন্যকিছু নয়। কোন ম্যাচই সহজ ছিলনা, আমাদের ছেলেরা সেটা সহজ করে নিয়েছে। ফাইনালের কথায় ধরুন, ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্য কি খুব সহজ ছিল? মোটেও না, আমরা সেটা সহজ করে নিয়েছি। যে দলটার কোন ফাইনাল জেতার অভিজ্ঞতায় ছিলনা। সেই দলটাই কিনা ফাইনালে পর্বতসম একটি লক্ষ্য তাড়া করলো ৭ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই। অবিশ্বাস্য- হ্যাটস অফ টাইগার্স।

নিন্দুকেরা হয়তো বলবেন, আয়ারল্যান্ড এবং উইন্ডিজ আর এমন কি শক্তিশালী দল। কিন্তু দেখুন গতকালই আয়ারল্যান্ড আফগানিস্তানকে হারালো, তাছাড়া ঘরের মাঠে ওরা বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ। উইন্ডিজ দল সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভাল ক্রিকেট খেলছিল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন দাপুটে পারফরমেন্স দেখানো দলটি শিরোপা না জিতলে অন্যায় হতো। তাইতো বিধাতাও ন্যায়বিচার করতে ভুল করেননি। বিদেশের মাটিতে এবং ইংলিশ (ইংল্যান্ড, ওয়েলস, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড মিলেই গ্রেট ব্রিটেন) কন্ডিশনে এমন সফল প্রস্তুতি, আর শিরোপা জয় বাংলাদেশ দলকে আরো আত্মবিশ্বাসী করেছে।

তবে এরমাঝেও কিছু ড্রব্যাকস আছে বাংলাদেশ দলের। যেমন – ফিল্ডিংয়ে সেরাটা দিতে পারেননি অনেকেই, এর একটা কারন হতে পারে বিশ্বকাপের আগ দিয়ে কেউ হয়তো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি। হতে পারে- টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেই হয়তো ঝুঁকি নিতে বারণ করা হয়েছিল। সেট হয়েও কোন বড় ইনিংস খেলতে না পারার ব্যর্থতা আছে আমাদের ব্যাটসম্যানদের। অথচ উইন্ডিজ দলের ৪টি এবং আইরিশদের ২টি করে সেঞ্চুরী আছে। সাই হোপের একারই আছে টানা দুটি সেঞ্চুরী। বোলিংয়ে মাঝেমাঝে মুস্তাফিজকে নির্বিষ মনে হয়েছে। হয়তো ইনজুরি থেকে তার রিকভারীটা পুরোপুরি হয়নি। বোলিংয়ে ব্যাটিংয়ের ন্যায় ধারাবাহিকতা ছিলনা। এখানে আরো কাজ করার সুযোগ আছে।

তথাপিও প্রতিটি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভাল শুরু এবং টপ/মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এসেছে বড় জয়। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ রান তাড়া করায় যেভাবে পটু হয়ে উঠলো, সেটাও
একটা বড় অর্জন ছিল।অন্য বিষয়টি হলো- কোন একক নৈপূন্য নয় বরং দলগত নৈপুণ্যে, একটি দল হিসেবে পারফর্ম করায় দলীয় শক্তি আরো বেগবান হয়েছে। এতে বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরে দল হিসেবে ভাল করার সম্ভাবনা প্রবল।পাশাপাশি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনই (তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, মিথুন, মাহমুদুল্লাহ, সাব্বির, সাইফুদ্দিন, মিরাজ, মাশরাফি, মুস্তাফিজ এবং মোসাদ্দেক, লিটন, রুবেল ও রাহি) ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে ফর্ম খুঁজে পেয়েছেন। সবমিলিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুংগে।

সুতরাং বিশ্বকাপে সমর্থকরা স্বপ্ন দেখুন, একটু বড় করেই দেখুন।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন