নীড়পাতা শিল্প সাহিত্য উপন্যাস দখিন দুয়ার খোলা - আয়শা জাহান নূপুর

দখিন দুয়ার খোলা [পর্ব – ১০]- আয়শা জাহান নূপুর

দখিন দুয়ার খোলা
পর্ব#১০

শর্মির মাথা ঘুরছে। মন চাইছে মাথাটা খুলে বাতাসে অনেকক্ষণ মেলে রাখতে। হু হু করে কিছু বাতাসে মগজে ঢুকে থাকুক। সেখানে আবাদ করুক। ইদানিং হুটহাট তার মাথা গরম হয়ে যায়। কুন্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া মাথা ও দুই কান দিয়ে বেরোয়। কিছুই ভালো লাগে না আর! মাঝেমধ্যে মনে হয় অনেকগুলো লাল পিঁপড়ে একসাথে মগজটাকে খুবলে খাচ্ছে। কী ভীষণ যন্ত্রনা হয় তখন! গত রাত থেকে একটানা ঘুমাচ্ছে সে।
অনুরাধা বুঝে উঠতে পারে না, কী হয়েছে মেয়েটার? এতো চাপা স্বভাবের বোঝার উপায় ও নেই। ঘরে ঢুকে মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন। আস্তে আস্তে ডাকতে লাগলেন। শর্মি ইশারায় বোঝালো আজ আর সে অফিসে যাবে না। শরীরটা বড্ড খারাপ লাগছে। প্রয়োজনে বিকেলের দিকে একবার ঢুঁ মেরে আসবে।
কী হয়েছে শর্মির? ওকে এখন অবশ্য জাগানো ঠিক হবে না! হঠাৎ টেবিলে চোখ পড়লো অনুরাধার। চিঠি! এখনো মানুষ চিঠি লিখে! পরক্ষনেই ভাবলো হবে হয়তো ওর অফিসিয়াল কোন কাগজপত্র। না, এই নাম তার পরিচিত! আবার কেন? কী চায় ও! অনুরাধা কেঁপে উঠল। না, না সে কিছুতেই তার মেয়ের জীবনে নতুন করে আর কোন ঝড় আসতে দিবে না!
অনেক বেলা করে শর্মির ঘুম ভাঙলো। গোসল করার পর শরীরে একটা চনমনে ভাব চলে এসেছে। কপালে উঁচু করে একটা সিঁদুর রঙ্গা লাল টিপ পরলো। এর অর্থ এখন তার মন ভালো!
অনুরাধা খেতে দিয়ে জানতে চাইলো, “রঞ্জনের সাথে কী তোমার যোগাযোগ আছে!”
এর মানে মা নিশ্চয়ই চিঠিটা দেখেছে। সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো সে। বলল,” না, তবে বছর বাদে দু একটা করে চিঠি আসে। আমি উত্তর দিই না!”
কী চায় সে?
জানি না! স্পষ্ট করে কিছু লেখে না তো!
আমি চাই না তুমি তার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখো!
তুমি কি মনে করো যে আমি চাই?
না, করি না। তারপরও বললাম। আমি মা তো!
হুম।
ও বিয়ে থা কিছু করেছে?
না বোধহয়!
করছে না কেন?
আমি কি করে জানবো?
জানার দরকার ও নেই।
অনুরাধা কতক্ষণ বিড়বিড় করে চলে গেলো। শর্মি জানে মা খুব অস্থির হয়ে আছে। মায়ের এই স্বভাব তার পরিচিত।
আসলেই তো কি চায় রঞ্জন! ওর জন্য শর্মিকে অনেক দাম দিতে হয়েছে! অনেক কিছুই ছাড়তে হয়েছে। জীবন থেকে পাঁচটা বছর সে হারিয়েছে। আগে রীতিমত রাতে ঘুমোতে পর্যন্ত পারতো না সে! একটা ভয় তাকে জাগিয়ে রাখতো। ঠিক মতো পরিচিতদের সাথে কথা বলতো না! সারাক্ষণ একটা আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে সে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। অথচ তার কোন দোষ ছিলো না! সত্যিই ছিলো না! এখনো মাঝেমাঝে ঘুমের মধ্যে শর্মি লাফিয়ে উঠে অস্থিরতায় , উৎকন্ঠায় সে ঘামতে থাকে। এখনো কোন ছেলের সাথে সে সহজ ভাবে মিশতে পারে না। এর জন্য রঞ্জন দায়ী। হ্যাঁ, একমাত্র রঞ্জনেই দায়ী। আর সেই সব দিনের একমাত্র সাক্ষী ছিলো অনুরাধা। তাই অনুরাধা আর সহজ করে কিছু ভাবতে পারে না!

লালনের সাথে মাহজাবীন মেবিনের আরো একদিন দেখা হয়ে যায়! না, কোন বুক শপে না! বৃষ্টিতে! একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে!

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন