নীড়পাতা শিল্প সাহিত্য উপন্যাস দখিন দুয়ার খোলা পর্ব – ১১। আয়শা জাহান নূপুর

দখিন দুয়ার খোলা পর্ব – ১১। আয়শা জাহান নূপুর

দখিন দুয়ার খোলা
পর্ব#১১

আজ মেবিনের মন ফুরফুরে। হাওয়া দিচ্ছে খোলা দক্ষিণ দিক। বাংলাদেশে আজ ফেব্রুয়ারি চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে চলছে জাতীয় কবিতা উৎসব। কবি , লেখকদের নিয়ে এখন উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর ও বাংলা একাডেমি।দেশের বাইরে থাকা কবি, সাহিত্যিকরা অনেকেই ফ্রেব্রুয়ারি মাস জুড়ে একুশে গ্রন্থমেলায় ঢাকায় অবস্থান করেন। তাই সংগত কারণেই এই মাসটি লেখক ও পাঠকদের অতি প্রিয়। মেবিন আজ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। এবারের গ্রণ্হমেলায় তার তিনটি বই আসবার কথা। এরমধ্যে কবিতার বই “তুমি এঁকে রেখো প্রচ্ছদ আমার” আসার আগেই বেশ আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এই ঝড়ে তার কোন হাত নেই, মোহ ও নেই। সে ভেবে পায় না মানুষের এই অস্থিরতার পেছনের ভাবনাটা কী! তারা সবাই মিলে কোথায় পৌঁছে দিচ্ছেন মেবিনকে!
চত্বর থেকে বের হয়ে হাঁটছেন শাহবাগের দিকে। বিকেলের নরম আলোয় তিনি মোহগ্রস্ত। চুলে বেলী ফুলের গন্ধ মেখে আছে। একটু অসতর্ক হলেই পা পিছলে পড়ে যেতেন। তিনি থামলেন। এরপর আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার হাঁটতে হাঁটতে চলে এলেন পাবলিক লাইব্রেরীতে।

প্রাচ্য বসে আছে একেবারে কোনার টেবিলটায়। ঋতৃক ঘটকের সিনেমার উপর একটা বইয়ে ডুবে আছে সে। মাঝেমধ্যে নোট নিচ্ছে। পি এস ডি করছে সে এই বিষয়ে। বেশ কয়েকটা সিনেমা করে বেশ নামডাক হয়েছে ওর। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত! জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে ৭ টা ক্যাটাগরিতে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। শুরুটা করেছিলো অবশ্য টিভি নাটকের মাধ্যমে। এখন পুরোদস্তুর সিনেমাওয়ালা।
কি হলো! ডাকলে যে এখানে? মেবিন জানতে চায়।
বই থেকে মুখ তুললো প্রাচ্য। মুখে পরিমিত হাসি সবসময়ের মতো। হাসলে ওকে এমন লাগে কেন! মেবিন অস্থির হয়ে যায়!
চলো বের হই। তোমার জন্য ই এতক্ষণ ছিলাম। নতুন একটা মেয়ের খোঁজ পেয়েছি। দেখবে চলো।
সিনেমার জন্য! বেশ! ভালো খবর। মেবিন খুশি হয়।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মেবিন লক্ষ্য করে অনেকগুলো চোখ তাকে কৌতুহলী হয়ে দেখছে। এই দেখাটা সে উপভোগ করে।
গাড়ি ছুটছে নয়া পল্টনে প্রাচ্যর ফ্লাটের দিকে। যেতে যেতে জানা যায়, মেয়েটির দুলাভাই নাটকের মানুষ। সম্পর্কে প্রাচ্যর জানাশোনা। নতুন মুখ খুঁজছি শুনে কথায় কথায় একদিন বললো, আমার এক শ্যালিকা আছে। দেখতে সুন্দর। সিনেমার পোঁকা। আপনি চাইলে দেখাতে পারি। তো আজ সময় দিয়েছে প্রাচ্য।
হঠাৎ মেবিনের হাতটা টেনে নিয়ে বললো, তুমি সত্যিই ভালো আছো তো! গত সপ্তাহে যেতে পারিনি, রাগ করোনি তো!
মেবিন হাত সরালো না। তবে মুখে কিছু বললোও না। এই স্রোত , এই কিছু না বলে ছুঁয়ে থাকার অনুবাদ প্রাচ্য বোঝে আর কেউ না বুঝুক !
অনেকদিন পর মেবিনকে দেখে হামিদা বেগম বেশ খুশি হলেন। তিনি মেয়েটিকে বেশ স্নেহ করেন। তার ছেলের বন্ধু বলে নয় মেবিনকে আসলে ভালো না বেসে পারা যায় না! মেয়েটার মধ্যে কিছু একটা আছেই যা চুম্বকের মতো টানতে থাকে।
তুমি আসবে আমাকে বলো নি কেন! জানলে পছন্দের কিছু একটা করে রাখতাম।
আমি নিজেও জানতাম না আজ আসা হবে! তুমি আজ যা রেধেছো তাই খাবো, নতুনের আর দরকার নেই। তোমার শরীরের অবস্থা কি? ঠিক আছে তো সবকিছু? মেবিন জানতে চাইলো।
আছে রে! না থেকে আর উপায় আছে! আমার ছেলেটাকে তো চিনিস, তার পুরো পৃথিবী একদিকে আর মা একদিকে।
হুম, সব সন্তানের ই তাই হওয়া উচিত। তোমার সন্তান ভাগ্যবান তোমাকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছে।
ওদের এই টুকটাক কথার মধ্যেই প্রাচ্য এসে মেবিনকে ডাকলো, মেয়েটি এসেছে। দেখবে এসো।
ঠিক আছে, রাতে খেয়ে তারপর যাবে। আর শোনো, একদিন এসে এখানে থাকো না! আমার ভালো লাগবে! বলেই প্রাচ্যর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন হামিদা বেগম। তিনি কী কিছু বোঝাতে চাইছেন! হবে হয়তো!

চলবে….

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন