নীড়পাতা খেলাধুলা দলীয় চেতনায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ

দলীয় চেতনায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ

27
0

মোঃ সামসুল ইসলাম

ক্রীড়া ভাষ্যকার, বেতার এবং টেলিভিশন
মাঠের কৃষক, বন্দরের কুলি, কারখানার শ্রমিক-মজুর, কর্পোরেট অফিসের সহায়ক কর্মী থেকে বড় কর্তা, কূতনিতিক, আমলা, কবি-সাহিত্যিক, বোদ্ধা, ছাত্র, কিশোর, যুবক, হেঁসেলের গিন্নি থেকে গৃহকর্মী, সমাজের সব শ্রেণী পেশার বাংলাদেশী বাঙালী আজ টাইগার বন্দনায় মুখর। তাঁরা মনে-প্রানে বিশ্বাস করে, এবার মাশরাফির নেতৃত্বাধীন টিম বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অনেকদুর যাবে।আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য শেষ চার।কিন্তু সতেরো কোটি বাঙালীর আবেগী মন বলছে আমরা এবার চলেই যাব চুড়ান্ত লড়াইয়ে।
জেমসের গাওয়া সেই জনপ্রিয় ‘মা’ গানের একটি চরণ গেয়ে বলতে ইচ্ছে করে- ভোরের তারা রাতের তারা মাকে জানিয়ে দিস, অনেক কেঁদেছি, আর কাঁদতে পারিনা। মেঘে মেঘে অনেকতো হলো আর কত? এশিয়া কাপের একাধিক ফাইনাল, বিশ্বকাপের সুপার এইট, কোয়ার্টার ফাইনাল, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল এবং একাধিক ত্রিদেশীয় ফাইনাল খেলেছি। অনেক অপেক্ষা, অনেক লড়াই কিন্তু প্রাপ্তি কেবল কদিন আগের আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ট্রফির শিরোপা। একবার গেরো যেহেতু কেটেছে, তাই আর পিছন ফিরে তাকাতে চাইনা।
সেই ১৯৯৯ সাল, এই ইংল্যান্ডেই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছি আমরা। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর হঠাৎ বলা হলো- শীর্ষ ৮টি দল খেলবে সরাসরি, আর ১০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ বিশ্বকাপ। আমাদের দুরুদুরু মন তখন ভয়ে কাঁপছিল সারাক্ষণ। কিন্তু টাইগার্সরা ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ শুরুর আগ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাল ক্রিকেট খেলে- আমাদের সেই সন্দেহ সংশয় দুর করেছে। র্যা কিংয়ে দির্ঘদিন ৭ নং স্পটটি ধরে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে টিম বাংলাদেশ। এই সময়ে দেশে কিম্বা দেশের বাইরে প্রায় সব দলকেই আমরা এক বা একাধিকবার হারিয়েছি। ক্রমন্নতির এই ধারাবাহিকতা আমাদের দল, বিসিবি এবং সমর্থক সকলেরই মনে আস্থা আর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।এখন আমাদের দল এবং দলের প্রতিটি সদস্য মনে-প্রানে বিশ্বাস করে, নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে- আমাদের দিনে যেকোন দলকেই আমরা হারাতে পারি। আর এই আত্মবিশ্বাস এসেছে দলীয় চেতনাবোধ থেকে। দিনে দিনে আমরা অভিজ্ঞতা, বিগ ম্যাচ টেম্পারামেন্ট, পরিস্থিতি অনুযায়ি আক্রমন এবং রক্ষণে অপরুপ সমন্বয় করতে শেখা, অধিকাংশ সময় দলীয় পরিকল্পনা মাঠে গিয়ে যথাযথ বাস্তবায়ন করতে শিখেছি। আর এ কারনেই আমাদের সাফল্যের হার দিনকে দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা ক্রমোন্নতির মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হাঁটছিনা বরং দৌড়াচ্ছি।। আমাদের দলের আত্মবিশ্বাসের বড় জায়গা- আমাদের পঞ্চপান্ডব (মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ)। কিন্তু ক্রিকেটযে দিনশেষে দলীয় খেলা, পুরো দল সেটা বুঝতে শিখেছে এবং প্রয়োজনীয় মহুর্তে সকলেই কিছু কিছু দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারছে। তামিম দিনে দিনে পরিনত হয়ে- হয়েছেন লম্বা রেসের ঘোড়া, সাকিব বাড়তি দায়িত্ব নিচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, মুশফিক দলের ব্যাটিং স্তম্ভ বা মি. ডিপেন্ডেবল হিসেবে নিজেকে জাস্টিফাই করেছে, মাহমুদুল্লাহ বিশ্বমানের ফিনিশার হয়ে উঠেছেন, মাশরাফি শ্রমে ঘামে যোগ্য নেতা হয়েছেন। এদের পাশাপাশি তরুনরা ঠিক সময়মতো জ্বলে উঠতে শিখেছে, তারা দায়িত্ব নিতে পারছেন। সৌম্য প্রমান করেছেন কেন তাঁর উপর এতো বেশী বিনিয়োগ করা হয়েছিল। লিটন বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি স্কোয়াডে। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগানোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন মোসাদ্দেক এবং মিথুন। সাব্বির, রুবেল, রাহি নিজেদেরকে প্রতিনিয়ত ঝালাচ্ছেন। প্রস্তুত রাখছেন নিজেদের, যাতে সুযোগ পেলেই নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে দলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাহায্য করা যায়।এসবই আমাদের সাফল্যের মুল মন্ত্র।
কথায় বলে একটি শুভরাম্ভ মুল কাজের অর্ধেকটা সম্পন্ন করে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো, তাতে স্বপ্নের ডালপালা বিস্তৃত হবে বলাই বাহুল্য। দলীয় চেতনায় উদ্ভাসিত হোক তোমাদের আগামীর পথচলা। সাধ্য কার? কে রুখবে আমাদের? আমরা তো ছুটছি দুর্বার গতিতে। এবার শুধু বাঘের গর্জন নয়, এবার হবে বাঘের থাবা। খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার্স।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন