নীড়পাতা শিল্প সাহিত্য নারীহৃদয়ের কান্না ও আগামীর আকাঙ্ক্ষা

নারীহৃদয়ের কান্না ও আগামীর আকাঙ্ক্ষা

29
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

ধর্ষণ! একটি জঘন্যতম সামাজিক ব্যাধি।সোস্যাল মিডিয়া,পত্র পত্রিকা, টিভি ইত্যাদির মাধ্যমে অামরা সবাই কমবেশি এই শব্দটির সাথে পরিচিত। তাছাড়া অারও একটি কারণ অাছে,তা হল সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। অামাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সেই প্রাচীনকাল থেকে নারীসমাজ সামাজিকতার কঠোর শৃঙ্খলে বন্দি ছিল।এমন এক সময় ছিল যখন বিবাহিত নারীদের মৃত স্বামীর সাথে একই চিতায় সহমরণে ও যেতে হত অনেকটা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ও।তবে সময়ের বিবর্তনে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।তাই অাজও অনেক ক্ষেত্রে অামাদের নারীসমাজ অত্যাচারিত ও নিপীড়িত। অামাদের এই সমাজে এমন কিছু বিকৃত রুচির পুরুষ অাছে যারা মনে করে নারীরা হলো শুধু ভোগ বিলাসের বস্তু।তাইতো কুকুর যেমন শিকার কে সামনে পেলে হিংস্র হয়ে ওঠে তেমনি নারী দেখলে সেসব নরপশুদের মুখ দিয়ে পাষবিকতার লালা ঝরে।তাদের বিকৃত মনে জাগে ঘৃণ্য চিন্তা। শকুনি দৃষ্টিতে সর্বদা চিন্তায় থাকে কিভাবে একটা মেয়ের ইজ্জত লুন্ঠন করা যায়।অার এদের মতো পশুদের জন্য ধর্ষন নামক নির্মমতার কঠোর বলি হতে হয় অসহায় মেয়েদের। অামাদের সমাজে সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত স্থানেও একটি মেয়েকে অাত্মবলিদান দিতে হয়।এমনকি মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায় ও ধর্ষিতা হতে হয় নারীকে। পশুদের কুদৃষ্টি থেকে বাদ যায় না কোমলমতি শিশু থেকে বৃদ্ধা ও।অামাদের দেশের অাইন ব্যবস্থার গাফিলতির জন্য ধর্ষক ছাড়া পায় ঠিকই; এমনকি অাইনের পোশাকধারীরা ও ধর্ষকদের পক্ষে কোর্টে দাঁড়াতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করে না,কিন্তু নির্মমতার বলি হওয়া মেয়েটা সমাজ থেকে ধর্ষিতা খেতাব পায়।সে না পায় পরিবার থেকে একটু শান্তি, না পায় সমাজ থেকে একটু সহানুভূতি। এভাবে একপর্যায়ে গ্লানি সহ্য করতে না পেরে একটি মেয়েকে অাত্মহত্যা পর্যন্ত করতে হয়।
এখন সময় এসেছে প্রতিরোধের।অামাদের সবাইকে সম্মিলিত ভাবে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে অাসতে হবে।হোক তা কলমে,অথবা প্রকাশ্য রাজপথে।ভেঙে দিতে হবে ধর্ষক নামক নরপশুদের বিষদাঁত। অার অামাদের সরকার এবং সরকারের প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদেরও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর অাইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্ষকদের জন্য কঠোর অাইন প্রণয়ন এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।
অাজ অামার বোনের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে বাংলার মাটি। অার তা দেখে তনু,বিউটি,নুশরাতদের অাত্মা গুমরে গুমরে কাঁদছে।
—————-//—————
-অাহমদ শাফি-
১৫ জুলাই,মঙ্গলবার,২০১৯ ইং.
পঞ্চখন্ড,শ্রীহট্ট।

🌹উৎসর্গঃউদীয়মান প্রগতিশীল কলমযোদ্ধা
স্নেহাস্পদ সহযাত্রী অানিশা রহমানকে,সহমর্মিতার অর্ঘ স্বরূপ।
Anisha Rahman

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন