নীড়পাতা অন্যান্য খবর নারী ও অামাদের সমাজব্যবস্থা: অাহমদ শাফি

নারী ও অামাদের সমাজব্যবস্থা: অাহমদ শাফি

197
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

নারী ও অামাদের সমাজব্যবস্থা

অাহমদ শাফি

অামাদের এই পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় নারীসমাজ অাজও অবহেলিত।অামরা যারা মুখে সারাদিন নারীর অধিকার নিয়ে বড় বড় বুলি অাওড়াই,লম্বা লম্বা বক্তৃতা দেই,অামরা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব যে অামাদের সমাজে নারীদের সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে? না, অামরা তা পারব না এটা বলার সাহস অামাদের নেই।অামরা তো শুধু ভাত-কাপড় দিয়েই খালাস।একটা সংসারকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলতে একজন নারীকে যে কতটুকু কঠিন সংগ্রাম করতে হয় তা শুধু সেই জানে।অামাদের সমাজে প্রগতিশীল মানুষ যেমন অাছেন ঠিক তেমনি কিছু শুচিবায়ু গ্রস্থ মানুষ ও অাছেন যারা মনে করেন একটি মেয়ের জন্ম হয়েছে শুধু পর্দার অন্তরালে পরাধীনতার কঠিন শৃৃ্ঙ্খলে নিজেকে বন্দি রাখার জন্য।এদের জন্য অনেক প্রতিভাবান মেয়ের প্রতিভা ও অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়।তারা জোরে কথা বলা যাবে না,একা কোথাও বেরোনো যাবে না,কালো বোরকার অাবরণে সবসময় নিজেকে লুকিয়ে রাখতে হবে ইত্যাদি নিয়ম শৃঙ্খল একটি মেয়ের উপর চাপিয়ে দেন।কোনও মেয়ে যদি ভুলবশত কোনও ধরণের ছোটখাটো অন্যায় ও করে ফেলে তবে এক শ্রেণীর লম্পট ধর্মব্যবসায়ীরা সেটাকে পুঁজি করে ফায়দা লুঠার চেষ্টা করে।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এসব ধর্মব্যবসায়ীরা মনগড়া,মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে একটি নিরপরাধ মেয়েকেও ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।একটা মেয়েকে সমাজে বেঁচে থাকতে হলে যে পুরুষের তুলনায় কতটুকু কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয় তা অামরা কখনও বুঝি না বা বুঝার চেষ্টা ও করি না।অনেকে হয়তো ভাববেন যে,অামি হয়তো নারীসমাজের মন ভুলানোর জন্য এসব কথা বলছি;কিন্তু এটাই অামাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বাস্তব চিত্র।অাবার অামাদের সমাজে অারেক ধরণের পুরুষ অাছেন যারা মেয়েদের মনে করেন ভোগ বিলাসের বস্তু।এরা হল এক নম্বরের প্রতারক।পৃথিবীতে প্রেম ভালোবাসা অাগেও ছিল,এখনও অাছে,অার ভবিষ্যতেও থাকবে।কিন্তু কিছু সংখ্যক বিকৃত রুচির পুরুষদের কারণে প্রেম ভালোবাসার পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে।এরা একটি সহজ সরল মেয়েকে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সাথে মিথ্যা ভালোবাসার নাটক করে এক পর্যায়ে মেয়েটার উপর হিংস্রতার কালো থাবা বসায়।এসব কুলাঙ্গারদের ফাঁদে পড়ে অনেক সময় একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ইজ্জত পর্যন্ত হারাতে হয়।প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রের পাতা খুললে এরকম অসংখ্য ঘটনার নজির অামরা দেখতে পাই।অামাদের এই সমাজব্যবস্থায় কোনও অসহায় মেয়ে যদি কোনও নিকৃষ্ট মনোভাবধারী পুরুষদ্বারা নির্মম ভাবে ধর্ষিত হয় তবে প্রশাসনের হাত থেকে ধর্ষক ছাড়া পায় ঠিকই কিন্তু সেই অসহায় ধর্ষিতা মেয়েটি সমাজে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত হয়।সমাজপতিদের কাছে সে একজন নষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।যার ফলে সবকিছু হারিয়ে অবশেষে সে অাত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।সমাজ তাকে বাধ্য করে।অামাদের দেশে ক্যান্টনমেন্টের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানেও একটি মেয়েকে নিজের সর্বস্ব বলি দিতে হয়।মসজিদের মতো একটি পবিত্র জায়গায়ও একটি মেয়েকে নিজের ইজ্জত হারাতে হয়।এত লজ্জা অামরা রাখি কোথায়? তখন কোথায় থাকেন অামাদের সুশীল সমাজ?এর জন্য দায়ী কে?অামরা না অামাদের এই সমাজব্যবস্থা?প্রশ্ন রইল অাপনাদের কাছে। তবে বর্তমানে অামাদের এই উন্নত বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।বর্তমান যুগে অামাদের পুরুষদের পাশাপাশি নারীসমাজও অাজ অনেক এগিয়ে।শিক্ষা,সংস্কৃতি,খেলাধুলা,সাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে অাজ নারীসমাজের অবস্থান প্রশংসনীয় মাত্রায়।অামাদের সরকারও নারীর উন্নয়নে নানা রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।অাসলে মেয়েরা জীবনে অনেক ধৈর্যশীল হয়।তাদের উপর যত রকমের দুঃখ কষ্ট অাসুক না কেন তারা তা সহজে স্বীকার করতে চায় না।নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে ভালোবাসে তারা।এখন একটা মেয়েকে যদি কোনও প্রয়োজনে রাস্তায় বেরোতে হলে অনেক চিন্তা করে বেরোতে হয়।কারণ কিছু সংখ্যক বখাটে রাস্তাঘাটে সবসময় হিংস্র সাপের মতো ওৎ পেতে থাকে।মেয়েরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য,অশ্নীল বাক্য ছুড়ে দেয়।অামাদের প্রশাসন যদি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিত তাহলে একটা মেয়েকে রাস্তাঘাটে ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হতো না।অার যারা এসব করে তারা কি একবারও এটা ভেবে দেখে না যে,যার কারণে তারা অাজ এ পৃথিবীর মুখ দেখতে পেয়েছে তাদের সেই গর্ভধারিনী মা ও যে একজন নারী।বড় অাশ্চর্য লাগে!অামরা যদি মানবিকতার দিক দিয়ে একবার চিন্তা করতাম যে পুরুষ হিসেবে সমাজে অামাদের যতটুকু প্রাপ্য, একজন নারীরও ততটুকু প্রাপ্য।তাহলে সমাজে অার লিঙ্গ বৈষম্য থাকত না। তাই অাসুন,পুরুষ হিসেবে অামরা নারীদের শ্রদ্ধা করতে শিখি।তাদেরকে যথাযথ মর্যাদা দেই।সমাজে তাদের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করি।বাড়িয়ে দেই সাহায্যের হাত।একজন পুরুষের সাফল্যের পেছনে একজন নারীর অবদান থাকে সবচেয়ে বেশি।একজন পুরুষকে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌছাতে প্রেরণা দেয় যে নারী,সে হতে পারে তার মমতাময়ী মা,স্নেহময়ী বোন,তার জীবনসঙ্গিনী,তার ভালো বন্ধু।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন