নীড়পাতা খেলাধুলা নিজের শেষ বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে মাশরাফীর যত কথা

নিজের শেষ বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে মাশরাফীর যত কথা

সম্ভাবনা ডেস্ক:

এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে এ নিয়ে আমার বিশেষ কোনও প্ল্যন নাই।’ কথাগুলো মাশরাফী বিন মোর্তজা যতটা সহজ ভাবে বলেছেন তা তার ভক্তদের জন্য ততোটা সহজভাবে মেনে নেয়ার কথা না। তবুও তো বিদায় বলতে হবে একদিন।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ আর নিজের চতুর্থ বিশকাপের বিমান ধরার আগে মাশরাফীর সংবাদ সম্মেলনে বলা পুরো বক্তব্যটাই তুলে ধরা হলো ক্রিকপোস্টের পাঠকদের জন্য।

‘অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক আছে বলে গত কয়েকবারের থেকে এবারের দলটাকে ব্যালেন্স বলা যায়। যারা জুনিয়র খেলোয়াড় আছে ম্যাক্সিমামের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এর মানে এই না যে, অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো টুর্নামেন্ট খেলা যাবে। অবশ্যই ইউনাইটেড থাকতে হবে। একটা টুর্নামেন্টে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। তার আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে। নয়টা ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি আসবে। সেগুলো হ্যান্ডেল করার জন্য মানসিকতা বেশি জরুরী। আপস অ্যান্ড বাউন্স থাকবে কিন্তু সামনের ম্যাচে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে সেটা খুব জরুরী। আয়ারল্যান্ড থেকেই সেটা প্র্যাকটিস করতে হবে যেন আমরা বিশ্বকাপের জন্য রেডি থাকি এইসব সিচুয়েনসন হ্যান্ডেল করার মতো।

ইম্পসিবল কোনও কিছুই না। অবশ্যই পসিবল। তবে কঠিন অনেক কঠিন। এর আগে ওয়ার্ল্ড কাপ যেরকম ছিল গ্রুপ স্টেজে একটা বড় হারের পর যেটা হতো…তাদের কামব্যাক করা কঠিন হয়ে যেত। লিমিটেড গেমস ছিল। এখানে নয়টা ম্যাচ। যারা প্রত্যাশা করছে সেমিফাইনাল খেলবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ থাকবে। আমাদেরকে ওই জায়গাটা খেয়াল রাখতে হবে।

এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আলাদা করে নিজেকে তৈরি করার কিছু নেই। বিশ্বকাপে এটাও আবার একটা প্রেশার। আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারব। প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমার যে দায়িত্বটা আছে সেগুলো চেষ্টা করবো পুরোপুরি ঠিক করার।

ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপাক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন। কিন্তু এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে প্রচুর রান হয়।  আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্ল্যাট উইকেট এবং প্রচুর রানের। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই এখানে বড় রানের খেলা হবে। ইংল্যান্ডে এই সময়ে অনেক রান হয়। সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ। আমাদের হয়তোবা কোনও রিষ্ট স্পিনার নেই। এটা আমাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য দলে যাদের আছে তারা ব্রেক থ্রু দিয়ে দেয় মাঝখানে। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই তা বলবো না। অতীতে হয়তো এরকম রেকর্ড খুব একটা নেই। চেজ করে জিতেছি বা এতো বড় রান করেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করেছিল। তামিম একশ করেছিল। এরকম যদি ব্যাটিং করি তাহলে পসিবল। অন্যান্য দল যেরকম নিয়মিত করছে। আমাদের রিসেন্ট পাস্টে এতো বড় স্কোর নাই। একটা কারণ হতে পারে আমাদের হোম কন্ডিশনে তো এতো এতো রান হয়না। এটা একটা ব্যাপার। অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছে। বলা কঠিন তবে সামর্থ্য যে নেই তা বলব না। আমাদের ব্যাটিং অর্ডার অনেক অভিজ্ঞ।  কিন্তু অনফিল্ডে ২২ গজে যে চাপটা আসবে ওই চাপ হ্যান্ডেলও করতে হবে, আবার রানও করতে হবে। এটা ডিপেন্ড করে মেন্টালিটির ওপর। কিন্তু সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নাই।

শেষবার আমরা বিশ্বকাপ খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। একদম সিমিলার কন্ডিশন এবারও।  ফ্ল্যাট উইকেটও ছিল। তাদের চাওয়া ছিল ওরকমই। ওর ভেতরে ওখানে পেসাররা ভালো করেছিল।আমাদের এখানেও ভালো করার সামর্থ্য আছে। আমি শিওর, ওখানে যেকোনো দলের পেস বোলাররা যদি ভালো করে তাহলে ওখানে ভালো করার সুযোগ বেশি থাকবে।  ওখানে হেল্প ততোটা থাকবে না, স্পিনারদেরও হেল্প ততোটা থাকবে না। আমরা যারা পেস বোলার আছি, আমরা যদি শুরুটা ভালো করি, ভালো বোলিং করি তাহলে আমাদের জয়ের সুযোগ বেশি থাকবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমাদের বোলাররা ভালো করেনি বলে আমরা দলগত পারফরম্যান্স সেভাবে ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিলাম, কিন্তু ইন অ্যান্ড আউট আমরা চার ম্যাচে পেস বোলিং ভালো করিনি ইংল্যান্ডে। ওটা আমাদের মাথায় আছে। আমরা পেস বোলিং ইউনিট সম্মিলিতভাবে কতোটা ভালো করতে পারি। নির্দিষ্ট করে একজনকে না বলে পুরো পেস ইউনিটকে ভালো করতে হবে।

যে উইকেট আসবে, আসলে উইকেটের ওপর ক্রিকেট অনেক কিছু নির্ভর করবে। কারণ আপনি দেখবেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ডের যে বোলিং অ্যাটাক, তারা বোলিংয়ে ৩৫০ রান দিচ্ছে আবার সেটা আবার তারা চেজও করে ফেলছে। এমন না যে তারা ব্যাটিংয়ে চেইজ করতে পারছে না। আপনি যেটা বললেন তিনশর আগে আটকাতে পারার অ্যাবিলিটি আমাদের আছে।হ্যাঁ এক্সট্রা পেস যেটা দরকার সেটা নেই। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে হয় কি, অনেক সময় পেস মেটার করে রান যদি বৈচিত্র্য ঠিক মতো থাকে। সো ওইগুলো প্রোপার ইউজ করা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করা। ওভারঅল আমাদেরকে ওইভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। যেহেতু আমাদের এক্সট্রা পার্ট রিষ্ট স্পিনার নেই আমাদের। এখানে আমাদের অভাব আছে। তবে সাকিব ওয়ার্ল্ড ক্লাস। মিরাজ খুব ভালো করছে। মুস্তাফিজ, রুবেল, সাইফউদ্দিন, আমি আছি। ইউনিট হিসেবে আমরা খারাপ না যে আমরা ওই চাপ হ্যান্ডেল করতে পারব না। কিন্তু কোনও কোনও ম্যাচে আপস ডাউন যাবে। কিন্তু কাম ব্যাক করা জরুরী। এটা হতে পারে এক ম্যাচ পর আবার মিডলে। ভালো দুই-একটা উইকেট পড়লে খেলা বোলারদের পক্ষে চলে আসে। এসব জিনিসগুলো কিন্তু হেল্প করবে। আমাদের  সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা জানি। আমাদের সেরা সামর্থ্য ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের ভালো কিংবা খারাপ ক্রিকেট খেলতে কখনো হেল্প করবে না। বিশেষভাবে আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমার কাছে মনে হয় এটার দিকে নজর না রাখাই বেটার হবে। এটা আবার যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো আমি আছি। কিন্তু এটা আমাকে ইফেক্ট করে না। আমি জানি সাকিবকেও করে না। অন্য কাউকে করতে পারে। যাকে করে সেটা তার বুঝতে হবে। এটার জন্য টিম রুলস জারি করার কিছু নেই। এটা ব্যক্তিগত বিষয়। যেহেতু সমস্যা তৈরি করে এটার থেকে দূরে থাকতে পারলে ভালো।  ]দুইটা মাস টোটাল মনোযোগ বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক থাকা ভালো হবে। আমাদের দল ও দেশের ক্রিকেটের জন্য তাহলে ভালো হবে।

আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।  ভালো হলে সবাই খুশি হবে। আমারও ভালো লাগবে। এক্সট্রা প্রেশার আমি কখনো নিতে চাই না। যেটা নিয়ে চিন্তা করা যে শেষ বিশ্বকাপ খেলছি এখানে ভালো কিছু করে আসা। আমি  সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী। পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। মেহনত করতে হবে। কষ্ট করতে হবে। সেটা করার জন্য প্রস্তুত কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বেস্ট বেস্ট টিম অনেক সময় বিশ্বকাপ জিতেনি। সেরা দল আবার অনেক সময় সেমিফাইনালেও উঠেনি। আমাদের ওপরে এরকম কোনও চাপ নেই যে আমাদেরকে বিশ্বকাপ জিতে আসতে হবে। কিংবা আমাদের সেমিফাইনালে ‍উঠতে হবে। আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। পুরো বিশ্বের প্রাক্তন ক্রিকেটার, যারা টপ ক্রিকেটার ছিল বা যারা অ্যানালাইজ করে  তাদেরকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, আমরা কখনোই ফেভারিট না। আমরা যদি এখানে কিছু করতে পারি তাহলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নিয়ে পরিবর্তন হবে আরও বেশি যেটা আাগের থেকে অনেক হয়েছে। আমরা সেটা যদি করতে পারি ভালো। এটা অনেক গ্রেট সুযোগ আমাদের জন্য। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই চাইবো ভালো করি।

প্রথমত আমরা গতবার যখন ট্রাই নেশন খেলেছিলাম, ওইরকম যদি উইকেট দেয় তাহলে আমি নিশ্চিত না আমাদের প্রিপারেশন কেমন হবে। কারণ ইংল্যান্ড ওই রকম উইকেট আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গিয়ে পাই নি। আশা করব যে এবার সিমিলারটি থাকবে। কারণ আমরা প্রস্তুতির জন্য আয়ারল্যান্ডকে বেঁছে নিয়েছি। সেখানকার উইকেট খুব ইম্পরট্যান্ট। যেই উইকেটটা ইংল্যান্ডে থাকবে সেটা যেন পাই। আর সেখানে প্রত্যেকটা ম্যাচ জয় করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর বিশ্বকাপের জন্য আলাদা অ্যাডভান্টেজ হবে যদি আমরা এখান থেকে জিতে ওখানে যেতে পারি।

আর আপনারা যেটা বলেছেন, সেরা দল, এইটা গুরুত্বপূর্ণ না। এশিয়া কাপে এই দল নিয়েই গিয়েছিলাম। ট্রফি জিততে পারি নি, সেরা দলই ছিলাম। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। খুব আগের বিষয় না। এই দলই ছিল। এই হাইপ তোলার কোনও প্রয়োজন নেই। দুই বছর আগে এই দলই খেলেছে। নতুন করে এক্সট্রা অরডিনারি এমন কিছু তাদের ভেতর আসেনি যে তারা এই মুহূর্তেই সেরা দল। সেরা দল সবসময় ভালো করে না। যারা মাঠে ভালো করে তারাই ভালো করে।

প্রথমত, যেই দলটা দিয়েছে, যেই দল দিবে সেটাকেই সেরা দল বলতে হবে অ্যাজ অ্যা ক্যাপ্টেন। আমরা সেরা দল নিয়েই যাচ্ছি। ১৫ জনের যখন স্কোয়াড হয় তখন আনফরচুনেট কিছু থাকেই। হয়তো যাকে কেউ এক্সপেক্ট করছে না সেটা দলের জন্য ফরচুনেট হয়ে যায়। এটা এখানে এসে বলা কঠিন।

এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সেমিফাইনাল যাওয়া খুব বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে যেটা বলতাম যে, সেমিফাইনাল গেলে একটা একটা ম্যাচ। এখনো তাই বলতে হচ্ছে। সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে। কারণ এবারের ফরম্যাট সেই ৯২’র মত, হুইচ ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট। সেমিফাইনালে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। আমরা অনেকবার সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে হেরেছি। আগে সেমিফাইনালটা যদি যাই, তাহলে বড় অর্জন হবে। তারপর ঐ পার্টিকুলার দিনে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ।

১৫ জনের দল, এর বাইরে আরও কয়েকজনের ইনক্লুসন প্রেশার ক্রিয়েট করবে, সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট ক্রিয়েট করবে। কেউ কেউ ওইভাবে প্রেশার নেয়। আবার কেউ নেয় না। ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে। তবে যারা আসছে তাদের আমি অবশ্যই বলব যে মন খুলে খেলতে। এটা নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলারও নেই। যারাই খেলবে তাদের সব দিয়ে খেললে সমস্যা হওয়ার কথা না। আর আয়ারল্যান্ডে আগে থেকেই বলা হচ্ছিল যে দুই জন প্লেয়ার অতিরিক্ত যাবে। অনুমিত ছিল যে দুইজন অতিরিক্ত প্লেয়ার যাবে, প্র্যাকটিস করবে, ম্যাচ খেলবে। এখানে এক্সট্রা দুইজন আসছে। আমার মনে হয় পাজলড হওয়ার কিছু নাই। চারপাশে অনেকে অনেক কিছুই চিন্তা করে। কিন্তু প্লেয়ার হিসেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া তো আর কিছু করার থাকে না। ইন্ডিভিজুয়াল প্লেয়ারদের এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আদারওয়াইজ আর কোনও অপশন নেই।

হ্যাঁ আমার অবশ্যই আছে। বিশ্বাস রাখি যে ওরা ভালো খেলবে ও ভালো রেজাল্টও করবে। কারণ আগের বার যখন সৌম্য এসেছিল বিশ্বকাপে তখন কিন্তু একই রকম ছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপে, এখন তো তার চার বছরের অভিজ্ঞতা আছে। রিসেল্টলি রান করেছে। বলব না যে ফর্মে আছে। এক দুই ম্যাচে রান করলে তো ফর্মে আসে না। কন্সিসটেন্সি থাকার পর বলা যায় ফর্ম আছে। যেটা তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের আছে। একে বলে কন্সিসটেন্সিকে বলা হয় ফর্ম। তো আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপে ভালো খেলবে, আয়ারল্যান্ডেও ভালো খেলবে।

নয়টা ম্যাচে, আমার মনে হয় প্রতিটা দলের খারাপ ভালো দিয়ে যাবে। এটা খুব ইম্পরট্যান্ট যে নেক্সট ডে’তে কামব্যাক করা। যেটা যাবে সেটা তো আর ফিরে আসা সম্ভবও না। এটা নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। বিশ্বকাপে এক মাসে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। এখানে প্রতিটা ম্যাচ আমাদের জন্য সমান যাবে না। যেটা ম্যাচ খারাপ যাবে পরের ম্যাচে যেন সেই রেশটা না থাকে। এই প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছি। এটা আসলে মেন্টাল ব্যাপার। আমাদের আরও কথা বলতে হবে। আরও প্রস্তুত হতে পারি এবং মেক শিওর করতে পারি যেন আমরা সেরাটা দিতে পারি প্রতি ম্যাচে। অনেক সময় ম্যাচ হারলেও সেরাটা দিতে পারলে পরের ম্যাচে মন চায় যে আরও বেশি কিছু করি। এটা ইম্পরট্যান্ট।

সব দলেরই ভাল খারাপ দিয়ে যাবে, কিন্তু যেন পরের দিনেই আবার ফিরে আসা যায়। কারণ যেটা চলে যাবে সেটা তো আর ফিরে আনা সম্ভব হবে না। কিন্তু বেশিরভাগ ম্যাচই ভাল খেলতে গেলে আর জিততে গেলে ওই মানসিকতায় থাকতে হবে। আমার বিশ্বাস যে আমাদের সবারই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। সেমিফাইনালে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে সো এই ম্যাচগুলো সব ম্যাচই সমান যাবে না। কাজেই ক্যামব্যাকের প্রস্তুতি নিয়েই আমরা কথা বলছি। এটা আসলে মানসিক ব্যাপার।

আর বিশ্বকাপ জেতার কথা যেটা বললেন অবশ্যই আছে আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তবা শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরণের টুর্নামেন্ট কীভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো, এটার অভ্যাস থাকা খুব জরুরী। এর আগে সেমিফাইনাল হয়েছে ,বা কোয়ার্টার ফাইনাল আছে। ফাইনালও এশিয়া কাপে উঠে জিততে পারিনি তিনবার। যে মানসিক চাপ থাকে তখন হয়ত একটা দুইটা উইকেট ধসে পড়েছে ওই চাপটা ধরতে পারব। বড় টুর্নামেন্ট জিতলে পরে এই চাপ হেন্ডেল করা সহজ হয়। খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব বলব না।

পেস বোলারদের ব্যাপারটা না, কখনো পুরপুরি সুস্থ থাকে না। ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলতেই হয়। আমাদের ড্রেসিং রুমে একজন লিজেন্ড আছে কোর্টনি ওয়ালশ তার সঙ্গে কথা বলেও অনেক জেনেছি যে সেও সকালে উঠে অনেক পেইন ফিল করত কিন্তু তারপর ম্যাচ খেলত। এটা অভ্যাসের ব্যাপার। আমাদের পেস বোলার আমিসহ যার আছি আমাদের একেবারে সিরিয়াস কিছু না হলে শতভাগ দিতে হবে, সেই মানসিকতা নিয়ে যেতে হবে। যেহেতু ওখানে কাজটা আরও কঠিন। কাজেই ছোটখাটো ছোট বাইরে রেখেই খেলতে হবে।

কোচ মনে করেছেন অতিরিক্ত কিছু পেসার সঙ্গে রাখা। যদি আল্লাহ না করুক কোন সমস্যা হয়। তারা এখানে কি কি অনুশীলন করবে এসব চিন্তা করে নেওয়া হয়েছে কারণ কারো কোন সমস্যা হলে যেন ব্যাকআপ তৈরিই থাকে। যেহেতু তিন চারজনের চোট আছে। আয়ারল্যান্ডে গিয়েও তো পাঁচটা ম্যাচ খেলতে হবে যদি ফাইনালে উঠি। পাঁচটা ম্যাচ খেলতে গেলে যেকোনো অঘটন ঘটতে পারে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে একজন ব্যাকআপে আছে আর ওই কন্ডিশনে গিয়ে তৈরি আছে। এই কারণে স্কোয়াডে থাকা পেসারদের পাজল্ড হওয়ার কারণ দেখছি না। এই চিন্তাটা আমি মনে করি খারাপ না।

অবশ্যই তারা স্কোয়াডে এসেছে তারমানে তাদের উপর সবারই আস্থা আছে। এবং ইয়াসির রাব্বি বেশ কিছুদিন ধরে ঘরোয়া খেলছে। বিপিএলে ভাল খেলেছে, দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। ডিপিএলেও শুরুতে ভাল করেছে। ফরহাদ রেজা ভাল খেলেছে। পরে দলে এলো। তাসকিনের দুর্ভাগ্য, নিউজিল্যান্ড যেতে পারলে হয়ত তার পথটা এত কঠিন হতো না। এরা সবাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আমি মনে করি। এরা বাংলাদেশকে লিড করবে। অবশ্যই নাঈম বা যারা আছে অভিজ্ঞতা কম যদিও নাইম টেস্ট খেলেছে। আশা করি এই আয়ারল্যান্ড বা ইংল্যান্ড যদি যেতে পারে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বড় অর্জন হবে।

অবশ্যই সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদি আয়ারল্যান্ডকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি দেখেন তবে সেটাই হওয়া উচিৎ। তবে একসঙ্গে হয়ত আমরা আরও দুইটা অনুশীলন ম্যাচ পাব। ওই দুইটাকেও কাউন্ট করতে হবে। ওপেনার যারা থাকবে বা মিডল অর্ডার থাকবে তাদের জন্য খুব ভাল প্রস্তুতি হবে আশা করি। আর অতিরিক্ত দুইজন পরে আরও দুইজন। এরা যে আয়ারল্যান্ড ম্যাচ পাবে না খালি চোখে মনে হচ্ছে না। তারা ম্যাচ পাবে। কিছু প্লেয়ার আছে আমি ভাবছি যারা বিশ্বকাপ খেলবে তাদের বিশ্রামের দরকার হতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু ম্যাচ তারা পাবে। আবার বিশ্বকাপের মধ্যেও কিছু সমস্যা হতে পারে। আমার কিছু বিশ্রামের ব্যাপারও আছে। আইডিয়ালি আমার মনে হয় সেই একাদশই খেলবে যেটা আমরা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ফোকাস করছি।

আরেকটা বললেন লিটন-সৌম্য-সাব্বির- আপনারা দেখেছেন তামিমকে আমরা যে ভূমিকা দিয়েছি লম্বা সময় ব্যাট করার, ও লম্বা সময় ব্যাট করলে আমাদের রানটা বড় হয়। ও একশো করলে আমাদের তিনশোর কাছে যায়, তিনশোও হয়েছে। তামিম তার খেলার ধরণ পাল্টেছে দলের জন্য। তামিম এখন ফোকাস করে ৪০ ওভার  ব্যাট করার। ৫০ ওভারও বলি কখনো কখনো। তামিমকে যখন এই ভূমিকা দিচ্ছি তখন বাকীদের লিটন বা সৌম্যকে ওই স্বাধীনতা দিতে হয় যাতে শটস খেলতে পারে। নিউজিল্যান্ডে লিটন তিন ম্যাচেই মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। সমালোচনা কিন্তু হয়েছে কিন্তু আমাদের ওর উপর কোন চাপ ছিল না। কারণ একেবারেই ওটা ছিল ওরা ফ্রি ক্রিকেট খেলুক। এরমানে এই না যে ফ্রি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে আউট হবে। আপনি যদি দেখেন বীরেন্দ্রর শেবাগ বা গিলক্রিস্টের মতো কে মারত। কিন্তু ওদের ধারাবাহিকতা ছিল। ওদেরকেও এটা এডজাস্ট করতে হবে। ওরা যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের জন্য ভাল হবে।

আমার মনে হয় মিরাজই আমাদের একমাত্র স্পিনার যে ওপরে ব্যাটিং করতে পারে। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলও যারা সাত বা আটে ব্যাটিং করে বা অলরাউন্ডার , তারা বোলার কাম ব্যাটসম্যান, তবে সাকিব ছাড়া। সে যদি ব্যাটসম্যান কাম বোলার হয়, তাহলে দলের জন্য সমস্যা হয়ে যায়। কারণ যারা আট নয় বা দশের দিকে ব্যাটিংয়ে নামে তাদের কাছ থেকে বোলিংটা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন সাইফুদ্দিন, ও যদি ব্যাটিং কিছুই না পারে, তারপরও সমস্যা নেই। ওর কাছ থেকে আমরা বোলিং আশা করি। মিরাজ ভালো করছে। নাঈমের কথা বললেন, ও ওভার-আর্ম বোলার, ও বাউন্স পেতে পারে, ওই চিন্তা করেই ওকে নেয়া। মোসাদ্দেক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রেক-থ্রো দিয়েছিলো। এ সব কিছু চিন্তা করেই আসলে ওদেরকে দলে রাখা। এ ছাড়া মোসাদ্দেক এখন পারফর্মও করছে। ঢাকা লিগে ভালো খেলেছে। মাঝামাঝি যারা আছে, মিঠুন ও রিয়াদ আছে, ওদের ব্যাকআপ লাগলে মোসাদ্দেকই আছে, যে ওখানে ভালো পারফর্ম করতে পারে।

আমার কাছে দুইটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, একটা হলও শুরুর দিকে উইকেট না দেয়া যদি আমরা আগে ব্যাটিং করি। দুইটা উইকেট যদি পড়ে যায়, আমরা চাপে পড়ে যাবো। দুই নম্বর বিষয় হলো আগে বোলিং করলে দ্রুত উইকেট নেয়া। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। আর একটা বিষয় হলও ৪৩ ওভারের পর বোলিং ও ব্যাটিং, দুইটা জায়গা ঠিক রাখতে হবে। মিডল পার্টে আমরা ভালো করছি। আমরা যদি এই দুইটা বিষয় ঠিক রাখতে পারি, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা অনেকগুলো ম্যাচ জিততে পারবো।

এটা শেষ প্রেস কনফারেন্স কি না, তা কিভাবে বলবো! কারণ এখনো আমি কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। আমি আপনাদের আগে বলেছি আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু করি না। এটা ঠিক যে এটা শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু দেশের মাটিতে শেষ প্রেস কনফারেন্স কি না তা বলতে পারছি না। আর দর্শকদের বিষয়ে একটা কথাই বলবো আমার ব্যক্তিগত চাওয়া আপনারা পুরো দলকে সাপোর্ট দিবেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেছি। তারপরও স্টেডিয়াম ভরা দর্শক পেয়েছি। এখন দেশের বাইরে খেলতে যাচ্ছি। আশা করি সেখানেও আপনাদের সাপোর্ট অবিরাম থাকবে। সামনে রোজা – ঈদ থাকলেও আপনারা ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। আমাদের পক্ষ থেকে ভালো করার ক্ষেত্রে কোনও আপস থাকবে না।

দেখেন আমরা এখনো ৩২০ বা ৩৪০ চেজ করতে অভ্যস্ত নই। আবার প্রতিপক্ষকে নিয়মিত ২৭০-২৮০ রানের মধ্যে আটকাতেও পারছি না। সুতরাং এখানে একটা অভ্যাসের ব্যাপার আছে। এর মানে এটা নয় যে কেউ ৩২০ করলে আমরা তা চেজ করতে যাবো না। আপনি যদি এক রানে হারেন বা দেড়শ বা ৭০ অথবা ৮০ রানে হারেন, হার তো হারই। আমাদের সর্বস্ব দিয়েই খেলতে হবে। কেউ ৩২০ করলে আমাদের ৩২১ রানের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে হবে। এর জন্য যত ঝুঁকি নেয়া সম্ভব, সবই নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে হবে না। অন্যেরাও তাই করবে। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমাদের সব সামর্থ্য আছে। যে কোনও সিচুয়েশনে আমরা ফাইট করবো। এই মানসিকতা থাকলে ৩২০ করতে বা প্রতিপক্ষকে ২৫০ রানে অলআউট করা সম্ভব। সবাই যেমন সর্বশক্তি দিয়ে খেলবে, আমাদেরও তাই নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

সামর্থ্য নিয়ে আমার কোনও প্রশ্ন নাই। প্রশ্ন হলও আমরা ৩২০ বা ৩৩০ করতে পারে কি না। কিন্তু আমরা হয়তো খুব বেশিবার তা করে দেখাতে পারিনি। তবে মানসিকভাবে যদি একটু শক্ত থাকি, তাহলে তা করে দেখানো সম্ভব।’

সূত্রঃ ক্রিক পোস্ট

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন