নীড়পাতা অন্যান্য খবর নীরবে এসে নীরবে ই চলে গেল অাধুনিক বিয়ানীবাজারের রূপকার,বিশিষ্ট দানবীর,পঞ্চখন্ডের দাসগ্রামের স্বর্গীয়...

নীরবে এসে নীরবে ই চলে গেল অাধুনিক বিয়ানীবাজারের রূপকার,বিশিষ্ট দানবীর,পঞ্চখন্ডের দাসগ্রামের স্বর্গীয় জমিদার বাবু প্রমথ নাথ দাস মহাশয়ের ৪০ তম মহা প্রয়াণ দিবস।

5
0
সম্ভাবনা ডেস্ক:
★নীরবে এসে নীরবে ই চলে গেল অাধুনিক বিয়ানীবাজারের রূপকার,বিশিষ্ট দানবীর,পঞ্চখন্ডের দাসগ্রামের স্বর্গীয় জমিদার বাবু প্রমথ নাথ দাস মহাশয়ের ৪০ তম মহা প্রয়াণ দিবস।
★অাজ ১২ ই ফেব্রুয়ারী।বিয়ানীবাজারের হাজার বছরের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র,খ্যাতিমান প্রবাদপুরুষ, বিশিষ্ট দানবীর ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব, অাধুনিক বিয়ানীবাজারের রূপকার স্বর্গীয় জমিদার বাবু প্রমথ নাথ দাসের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী।১৯৭৮ সালের এই দিনে বিকাল ৫ ঘটিকার সময় বাবু প্রমথ নাথ দাস তাঁরই দানকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত দাসগ্রামস্থ কালাচাঁদ বাড়ী বানপ্রস্থ অাশ্রমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।বাবু প্রমথ নাথ দাস ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি অাজীবন বিয়ানীবাজারের মাটিও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।অন্যান্য জমিদারদের মতো তাঁরও ভোগবিলাসে মত্ত থেকে জীবন কাটানোর কথা ছিল কিন্তু তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ তার উল্টো। সারাজীবন জনসাধারণের উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি।দানশীলতায় তিনি এতই উদার ছিলেন যে এজন্য তাঁকে তাঁর জমিদারী পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল।এমনকি তাঁর অতি সাধের বসতবাড়ি ‘গৌরচন্দ্র ধাম’ ও বিক্রী করতে হয়েছিল।
জমিদার বাবু প্রমথ নাথ দাস ১৯০০ সালে পঞ্চখন্ডের দাসগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুন্সী পবিত্রনাথ দাস।মাতার নাম সরলা সুন্দরী দেবী।প্রমথনাথ দাস ১৯১৭ সালে কাছাড়ের শিলচর হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি. এবং ১৯১৯ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. প্রথম বিভাগে পাশ করেন।অাজকে বিয়ানীবাজারে যত বড় বড় প্রতিষ্ঠান সবই বাবু প্রমথ নাথ দাসের দান এবং নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী।বিয়ানীবাজারে শিক্ষা,সংস্কৃতি,শিল্প,কৃষি সবকিছুতেই প্রমথ নাথ দাসের অশেষ অবদান কখনও অস্বীকার করার নয়।তিনি ছিলেন এতই ত্যাগী জমিদার যে তার কাছ থেকে কখনও কেউ খালি হাতে ফিরে অাসে নি।অাজকে বিয়ানীবাজার পিএইচজি হাইস্কুল,গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরীর ভূমি,বিয়ানীবাজার ডাকঘর,বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের বিশাল জমি,বিয়ানীবাজার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম তথা বিয়ানীবাজারের উল্লেখযোগ্য সকল প্রতিষ্ঠান ই প্রমথ বাবুর দান।
একটা জিনিস দেখে অামি অবাক হই যে মানুষটা বিয়ানীবাজারের মানুষের কল্যাণে নিজের সমস্ত সম্পত্তি,কোটি কোটি টাকার জমিদারী অকাতরে দান করে গেলেন সেই মানুষটাকে অামরা প্রায় ভুলেই গেছি।বিয়ানীবাজারের কোথাও তাঁর নামে কোনও স্মৃতিচিহ্ন নেই,নেই কোনও ভাষ্কর্য।তবে কিছুদিন অাগে বিয়ানীবাজার পৌরসভার জননন্দিত পৌর মেয়র জননেতা জনাব মোঃঅাব্দুস শুকুর মহোদয়ের উদ্যোগে বাবু প্রমথ নাথ দাসের দানকৃত ‘বাবুর বাড়ির রাস্তার'(যা বর্তমানে কলেজ রোড নামে পরিচিত) নামকরণ করা হয়েছে প্রমথ নাথ দাস রোড।এজন্য অামি মাননীয় মেয়র মহোদয়কে অান্তরিক সাধুবাদ জানাচ্ছি।এছাড়া অার কোথাও তাঁর অবদানের কোনও স্বীকৃতি নেই।এমনকি তাঁর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীও নীরবে এসে নীরবে চলে যায়।তাঁর স্মরণে বিয়ানীবাজারে হয়না কোনও অনুষ্ঠান।কত অকৃতজ্ঞ অামরা চিন্তা করেন।কত সহজেই ভুলে গেছি মানুষটিকে! অাজকাল অামাদের সমাজে মানুষ এক ইঞ্চি জায়গার জন্য রক্তারক্তি পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করে না।অথচ বাবু প্রমথ নাথ দাস জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বিয়ানীবাজারের মানুষকে অাধুনিকতার ছোঁয়া দিতে নিঃস্বার্থ ভাবে দান করে গেছেন দুহাত ভরে তাঁর অবদানের কথা কি করে এতো সহজে অামরা ভুলে গেলাম।অাজ অামাদের বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ,পিএইচজি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের যদি প্রমথ নাথ দাস সম্পর্কে কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে ২০% শিক্ষার্থীও তা বলতে পারবে কিনা সন্ধেহ।এটা তাদের দোষ নয় কারণ তাঁদের কখনও জানানো হয়নি প্রমথ নাথ সম্পর্কে।তাঁরা জানে না প্রমথ নাথ দাস কে?এই ব্যর্থতা অামাদের।অামরা গল্পচ্ছলে ও তাদের কোনওদিন বলিও নি তাঁর সম্পর্কে।অাজ যদি বাবু প্রমথ নাথ দাসের স্মৃতি সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হতো,বছরে একদিন হলেও তাঁকে স্মরণ করা হতো তাহলে অামাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম জমিদার বাবু প্রমথ নাথ দাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারত।
♦পরিশেষে অামি বিয়ানীবাজারের বিশিষ্টজনদের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরছি যেগুলো সফল ভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিয়ানীবাজারের ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের শেকড় সম্পর্কে জানতে পারবে।
★প্রস্তাব গুলো হলঃ
১.প্রতি বছর ১২ ই ফেব্রুয়ারী বিয়ানীবাজারের সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন,বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ প্রশাসন,পিএইচজি হাইস্কুল এবং বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রশাসন একক অথবা যৌথ ভাবে বাবু প্রমথ নাথ দাসের মৃত্যুবার্ষিকী পালন।
২.বিশেষ করে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ কর্তৃক প্রতি বছর বাধ্যতামূলক ভাবে প্রমথ নাথ দাসের জন্ম/মৃত্যু বার্ষিকী পালন।
৩.বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ প্রাঙ্গনে সুবিধাজনক স্থানে কলেজ প্রশাসনের উদ্দ্যোগে বাবু প্রমথ নাথ দাসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁর একটি নান্দনিক প্রতিকৃতি নির্মাণ।
৪.কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজের একটি ভবন অথবা কলেজ অডিটরিয়ামের নাম প্রমথ নাথ দাসের নামে নামকরণ করা।
৫.প্রমথ নাথ দাসের জীবনকর্ম সম্পর্কে জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ।
৬.স্কুল মার্কেট এবং কলেজ রোডের সকল ব্যবসায়ীবৃন্দ তাদের দোকানের প্যাড এবং সাইনবোর্ডে ঠিকানার জায়গায় ‘প্রমথ বিপনী’ এবং ‘প্রমথ নাথ দাস রোড’ লিখা।
অাজকের দিনে বাবু প্রমথ নাথ দাসের বিদেহী অাত্মার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
-অাহমদ শাফি-
পঞ্চখন্ড
১২-০২-০১৯ইং

 

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন