নীড়পাতা বাংলাদেশ সিলেট পঞ্চখণ্ডের গুণী ব্যক্তি #মবারক_আলী (১৯০৪-১৯৭৯)

পঞ্চখণ্ডের গুণী ব্যক্তি #মবারক_আলী (১৯০৪-১৯৭৯)

2
0

আতাউর রহমান

মবারক আলী ছিলেন পঞ্চখণ্ডের একজন খ্যাতনামা উকিল ও রাজনীতিবিদ। তিনি সর্বমহলে মবারক আলী উকিল নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও অবিভক্ত ভারতের সমর্থক।

#প্রারম্ভিক_জীবন:
মবারক আলী ১৯০৪ সনে সিলেট জিলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ফরমান আলী। স্থানীয় এম.ই স্কুলে তাঁর বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। তিনি করিমগঞ্জ সরকারি স্কুল ও নীলমণি উচ্চ বিদ্যালয় অধ্যয়ন করে ১৯২০ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে তিনি ১৯২২ সনে এইচএসসি ও ১৯২৪ সনে বিএ পাশ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২২ সনে বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর পেশাগতভাবে ‘উকিল’ হিসেবে সমাদৃত হন।

#রাজনীতি_ও_কর্মজীবন :
মবারক আলী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় মাওলানা ভাসানীর সাহচর্যে থেকে রাজনীতি করেন। অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রদেশের তৎকালীন করিমগঞ্জ মহকুমা সদরে তিনি ১৯২৮ সনে আইন ব্যবসা শুরু করেন। মেধা ও যোগ্যতা বলে প্রতিষ্ঠিত একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন করিমগঞ্জ বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই থেকে তিনি জনসাধারণের কাছে ‘উকিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৩৫ সনে মবারক আলী উকিল আসাম আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৫ সন পর্যন্ত এই আইন সভার সদস্য ছিলেন। করিমগঞ্জ মহকুমার ব্যক্তিত্ব মবারক আলী একবার করিমগঞ্জ মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান ও একাধিকার করিমগঞ্জ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান’র দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবী উকিল করিমগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠা ও সিলেট মেডিকেল স্কুল (সিলেট মেডিকেল কলেজ) প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা সত্যি প্রতিদানযোগ্য। এছাড়াও তিনি সিলেট আলীয়া মাদ্রাসায় টাইটেল কোর্স চালুর পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যান। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ভারতের সমর্থক। খণ্ডিত বাংলার সীমানা নির্ধারণ, পাকিস্তান (১১শ’ মাইল দূরত্বের দুটি খণ্ড মিলে) নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও রেফারেণ্ডামের মাধ্যমে মুসলমান জনগোষ্ঠী বিভক্তি করে পাকিস্তানের সাথে সিলেট যোগদান প্রসঙ্গটির প্রতি তাঁর কোনরূপ সমর্থন ছিল না।

স্বাধীনতা-উত্তর বিয়ানীবাজারের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইমামবাড়ি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রী বেগম মবারক আলীর সাথে সংসারধর্ম পালন করেন। তিনি পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে (মোঃ নুরুল হক ও মোঃ নুরুল হোসেইন) সন্তানের জনক ছিলেন।

#মৃত্যু:
মবারক আলী উকিল ১৯৭৯ সনের ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁর মরদেহ ইমামবাড়িস্থ পারিবারিক গোরস্তানে সমাধিস্থ করা হয়।

#লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। প্রধান শিক্ষক- দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়। সভাপতি – বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

পঞ্চখণ্ডের গুণী ব্যক্তি
#মবারক_আলী
(১৯০৪-১৯৭৯)

।।আতাউর রহমান।।

মবারক আলী ছিলেন পঞ্চখণ্ডের একজন খ্যাতনামা উকিল ও রাজনীতিবিদ। তিনি সর্বমহলে মবারক আলী উকিল নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও অবিভক্ত ভারতের সমর্থক।

#প্রারম্ভিক_জীবন:
মবারক আলী ১৯০৪ সনে সিলেট জিলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ফরমান আলী। স্থানীয় এম.ই স্কুলে তাঁর বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। তিনি করিমগঞ্জ সরকারি স্কুল ও নীলমণি উচ্চ বিদ্যালয় অধ্যয়ন করে ১৯২০ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে তিনি ১৯২২ সনে এইচএসসি ও ১৯২৪ সনে বিএ পাশ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২২ সনে বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর পেশাগতভাবে ‘উকিল’ হিসেবে সমাদৃত হন।

#রাজনীতি_ও_কর্মজীবন :
মবারক আলী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় মাওলানা ভাসানীর সাহচর্যে থেকে রাজনীতি করেন। অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রদেশের তৎকালীন করিমগঞ্জ মহকুমা সদরে তিনি ১৯২৮ সনে আইন ব্যবসা শুরু করেন। মেধা ও যোগ্যতা বলে প্রতিষ্ঠিত একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন করিমগঞ্জ বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই থেকে তিনি জনসাধারণের কাছে ‘উকিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৩৫ সনে মবারক আলী উকিল আসাম আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৫ সন পর্যন্ত এই আইন সভার সদস্য ছিলেন। করিমগঞ্জ মহকুমার ব্যক্তিত্ব মবারক আলী একবার করিমগঞ্জ মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান ও একাধিকার করিমগঞ্জ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান’র দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবী উকিল করিমগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠা ও সিলেট মেডিকেল স্কুল (সিলেট মেডিকেল কলেজ) প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা সত্যি প্রতিদানযোগ্য। এছাড়াও তিনি সিলেট আলীয়া মাদ্রাসায় টাইটেল কোর্স চালুর পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যান। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ভারতের সমর্থক। খণ্ডিত বাংলার সীমানা নির্ধারণ, পাকিস্তান (১১শ’ মাইল দূরত্বের দুটি খণ্ড মিলে) নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও রেফারেণ্ডামের মাধ্যমে মুসলমান জনগোষ্ঠী বিভক্তি করে পাকিস্তানের সাথে সিলেট যোগদান প্রসঙ্গটির প্রতি তাঁর কোনরূপ সমর্থন ছিল না।

স্বাধীনতা-উত্তর বিয়ানীবাজারের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইমামবাড়ি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রী বেগম মবারক আলীর সাথে সংসারধর্ম পালন করেন। তিনি পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে (মোঃ নুরুল হক ও মোঃ নুরুল হোসেইন) সন্তানের জনক ছিলেন।

#মৃত্যু:
মবারক আলী উকিল ১৯৭৯ সনের ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁর মরদেহ ইমামবাড়িস্থ পারিবারিক গোরস্তানে সমাধিস্থ করা হয়।

#লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। প্রধান শিক্ষক- দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়। সভাপতি – বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন