নীড়পাতা বাংলাদেশ সিলেট পঞ্চখণ্ডের গুণী ব্যক্তি || বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণেতা #নুরুল_ইসলাম_নাহিদ

পঞ্চখণ্ডের গুণী ব্যক্তি || বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণেতা #নুরুল_ইসলাম_নাহিদ

121
0

আতাউর রহমান

নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বামপন্থী রাজনীতিবিদ। তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নাহিদ বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের নির্বাচিত এম.পি।

#শৈশব:
নুরুল ইসলাম নাহিদ সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার কসবা গ্রামে ১৯৪৫ সনের ৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ আকদ্দছ আলী ও মাতার নাম জয়তুরা খাতুন। বর্তমান বাড়ি বিয়ানীবাজার পৌর শহরের নয়াগ্রামে।

#শিক্ষাজীবন :
লেখাপড়া জীবনে নুরুল ইসলাম নাহিদ কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ হাইস্কুল, সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।

#রাজনৈতিক_ও_কর্মজীবন:
দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক মুক্তির সকল আন্দোলন-সংগ্রামকে গন্তব্যপথ দেখাতে যাঁরা রাজনীতিকে মূল পেশা হিসাবে গ্রহণ করে জনগণের খেদমতে কাজ করে চলেছেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ তাঁদেরই একজন। সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়নকালে আইয়ুব শাহীর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে নুরুল ইসলাম নাহিদ-এর রাজনীতি শুরু হয়। ষাটের দশক পরবর্তী জাতীয় পর্যায়ে সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার দাবি ও অধিকার অর্জন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি যুক্ত ছিলেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সারির একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ও সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠনের সভাপতি। ১৯৭০ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে নুরুল ইসলাম নাহিদ তৎকালীন এই ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এর পূর্বেও তিনি সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরপর দু-বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্কুল জীবনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ হাইস্কুলে ‘স্কুল ক্যাপ্টেন’ নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘকাল সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি সিপিবি-র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।নববইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে তিনি তিন দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। নববই দশকের প্রথম দিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সাত সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন। এই কমিটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দেখা দিলে ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মেহনতি মানুষের সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৮-২০১৪, ২০১৪-২০১৮ এবং ২০১৮ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা (সিলেট-৬) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ম জাতীয় সংসদে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সে সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, জাতীয় শিশু পরিষদ, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় প্রেস কাউন্সিল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ট্রাস্টের পরিচালনা পরিষদের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সভাপতি, কাউন্সিল অব মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজী (এমআইএসটি) এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমীর (নায়েম) ‘বোর্ড অব গভর্নান্স’-এর চেয়ারম্যান ও এনটিআরসি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

#মুক্তিযুদ্ধের_ভূমিকা:
নুরুল ইসলাম নাহিদ মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারীতে তৎকালীন চেকোশেস্নাভাকিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়নের (IUS) দশম কংগ্রেসে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যোগদান করেন। এ সময় পাক সরকারকে ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় ফেরার আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে এক সপ্তাহ অবস্থান করে নুরুল ইসলাম নাহিদ সোভিয়েত ইউনিয়নের পার্টি ও রাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের যৌক্তিকতা এবং সমগ্র জাতির দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তাদের সমর্থন ও সাহায্যের আহবান জানান। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সেই তৎপরতা এক বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-সিপিবি’র সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নে সম্মিলিত গেরিলা বাহিনী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দিল্লিতে ভারত সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রেনিং, অস্ত্র ও অন্যান্য সাহায্য আদায় করতে সমর্থ হন। ৬ মে, ১৯৭১ দিল্লিতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে গণহত্যা ও প্রতিরোধ সংগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সংবাদ সম্মেলন সারা দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ১০ মে, ১৯৭১, আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়ন (IUS) এবং বিশ্ব যুব ফেডারেশন (WFDY) সহ বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন ও সহযোগিতা আদায়ে সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেন।

#আলোর_দিশারী :
নুরুল ইসলাম নাহিদ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মেহনতি মানুষের সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন। জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নিজ এলাকার (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) সকল উন্নয়ন সাধনের প্রচেষ্ঠায় তিনি আমপাবলিকের মনো-অধিনায়কে পরিণত হন। জাতীয় সংসদে প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তার উজ্জ্বল ভূমিকায় তিনি একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সকল মহলে সমাদৃত। সিলেটে শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি উপ-পরিচালকের দপ্তর স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্রিটিশ শাসনামলের দু-শিক্ষক পদের প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ব্যবস্থার অবসান করে চার শিক্ষক পদে উন্নীত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতির জন্য জনগণের কাছে নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন আলোর দিশারী। তাঁর কর্মের দ্যুতি নিয়ে জনতার আদালতে কোন বিভাজন নেই।

#লেখালেখি :
নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন প্রাজ্ঞ প্রাবন্ধিক। শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে প্রচুর প্রবন্ধ- নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁর লেখা ‘বাঙালি রুখে দাঁড়াও’ (২০০৬), ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, লক্ষ্য ও সংগ্রাম’ (২০০৭), ‘রাজনীতির সুস্থধারা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম’ (২০০৯), ‘শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ (২০০৯), বাংলাদেশের অভ্যদয় ও গণতন্ত্রের পথ পরিক্রমা (২০১০), শিক্ষা লক্ষ্য অর্জনে যেতে হবে বহুদূর(২০১৫) সালে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য বহু বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক বহু নিবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার নিয়মিত কলাম লেখক।

#গুরুত্বপূর্ণ_সফর:
নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনারে যোগদানের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া, ইউক্রেইন, বেলরুশিয়া, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, লাতভিয়া ও লিথুনিয়া), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, মরিসাস, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেকোশ্লোভাকিয়া, রুমানিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, আজারবাইজান, কিউবা, সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি দেশ সফর করেছেন। ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৫৩তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যালেস্টাইন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ইউনেস্কো এর ৩৪ তম (২০০৯) এবং ৩৫ তম (২০১১) সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তৃতা প্রশংসিত হয় এবং পরবর্তী মেয়াদের জন্য পুনরায় বাংলাদেশ ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০১৫ সালে ইউনেস্কোর ৩৮ তম জেনারেল কনফারেন্সে অন্যতম সহ-সভাপতিও নির্বাচিত হন ও ইউনেস্কোর ৩৯তম সাধারণ সম্মেলনের জন্য আবারও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

#মন্ত্রী_হিসেবে:
নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে (২০০৯-২০১৮) শিক্ষাক্ষেত্রে সকল মহলের মতামত নিয়ে সমগ্র জাতির জন্য ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ প্রণয়ন, ও জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃংঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ভর্তি নীতিমালা বাস্তবায়ন, যথাসময়ে ক্লাশ শুরু, নির্দিষ্ট দিনে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ, ৬০ দিনে ফল প্রকাশ, বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসায় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া, সৃজনশীল পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম প্রতিষ্ঠা, তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রভৃতি ব্যাপক কার্যক্রম এবং অভূতপূর্ব সফলতা সমগ্র জাতির কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও তিনি একইসঙ্গে ২০০৯ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৩-২০১৪ সালে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন।

#স্বীকৃতি_ও_সম্মাননা:
নুরুল ইসলাম নাহিদ-কে শিক্ষাক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ২০১২ সালে ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস’ বিশ্ব সম্মেলনে ‘পরিবর্তনের অগ্রদূত’ আখ্যায়িত করে ‘World Education Congress Global Award for outstanding contribution to Education’ পদকে ভূষিত করা হয়। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য। এর আগে তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, মণিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাষ্টের অন্যতম ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টারের আজীবন সদস্য।

#উপসংহার :
নুরুল ইসলাম নাহিদ আমাদের বিয়ানীবাজারের একজন পথিকৃৎ লোক। শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তাঁরই নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেয়েছে একটি শিক্ষানীতি। তিনি হলেন এর প্রণেতা। এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সার্থকতার জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু খ্যাতি লাভ করেছেন।

#লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। প্রধান শিক্ষক, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়। সভাপতি – বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

#তথ্যসূত্র :
১. শিক্ষা: লক্ষ্য অর্জনে যেতে হবে বহুদূর।-নুরুল ইসলাম নাহিদ।- প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৫।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন