নীড়পাতা বাংলাদেশ সিলেট পঞ্চখণ্ডের_গুণী_ব্যক্তি: শিক্ষা-সমাজ সেবার অনন্য পথিকৃৎ মাস্টার মুজম্মিল আলী

পঞ্চখণ্ডের_গুণী_ব্যক্তি: শিক্ষা-সমাজ সেবার অনন্য পথিকৃৎ মাস্টার মুজম্মিল আলী

9
0

 

আতাউর রহমান

শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক আন্দোলনে মাস্টার মুজম্মিল আলী একজন প্রথিতযশা ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুল্লাপুর ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামে মাস্টার মুজম্মিল আলী ১৯৩৭ সনের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ কছির আলী ও মাতার নাম ফিরুজা বিবি।

#শিক্ষাজীবনঃ
মাস্টার মুজম্মিল আলীর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি লাউতা গ্রামের পাঠশালাতেই। তিনি ১৯৫৭ সনে মেট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সনে ইন্টারমিডিয়েট পাশ ও ১৯৬১ সনে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী লাভ করেন।

#কর্মজীবনঃ
মাস্টার মুজম্মিল আলী গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী লাভের পর ১৯৬২ সনে লাউতা জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৬ সনের ১ জানুয়ারি বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০২ সনের ২৯ অক্টোবর তিনি বয়সজনীত কারণে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ৪১ বছর শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন।

#রাজনৈতিক_জীবন:
মুজম্মিল আলী ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে পাকিস্তান আমলে প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। দেশ স্বাধীনের সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করায় পাকসেনা কর্তৃক তাঁর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। একজন সংগ্রামী জননেতা হিসেবে বিয়ানীবাজার এলাকায় তাঁর সুপরিচিতি ছিল। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭০-র নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিদ্রোহী হয়ে ‘আম’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। অপরপক্ষে আওয়ামীলীগের বৃহৎ অংশের আরেক বিদ্রোহী নেতা মোঃ তোফাজ্জল আলী ‘মই’ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে আওয়ামীলীগের এই প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজারে সংগ্রাম কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক ব্যর্থতায় ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনার প্রেক্ষিতে সর্বস্তরের মুক্তিপাগল জনগণের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ সহায়ক কমিটি’। সেই কমিটির আহবায়ক ছিলেন মাস্টার মুজম্মিল আলী। তাঁরই তৎপরতায় ও নেতৃবৃন্দের পদচারণায় বিয়ানীবাজারস্থ নজির ফার্মেসীতে সমিতির দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই সমিতিই বিয়ানীবাজার ও ভারতের করিমগঞ্জের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সেঁতুবন্ধ রচনা করে। তখন করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকায় এই সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দের নামসহ তৎপরতার বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়।

দেশ স্বাধীন পরবর্তী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিষ্ঠা হলে রাজনীতিবিদ মাস্টার মুজম্মিল আলীকে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নাট্যকার তাজ উদ্দিন আহমদকে সেক্রেটারি করে জাসদ-এর বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা কমিটি গঠিত হয়। এই সময় মুজম্মিল আলী জাসদ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহসভাপতি নিযুক্ত হন। তৎপরবর্তীতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টীতে তিনি যোগদান করেন। দেশে উপজেলা গঠিত হলে তিনি ১৯৮৫ সনের মে মাসে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। মেয়াদ উত্তীর্ণের নির্বাচনে পুনরায় জনতার রায় নিয়ে তিনি ১৯৯০ সনের ১৬ জুলাই দ্বিতীয়বার উপজেলা চেয়ারম্যানের আসনে বসেন। তিনি সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও বিয়ানীবাজার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করেন।

অবশেষে মাস্টার মুজম্মিল আলী ২০১৪ সনের ২৪ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৬ টায় সিলেট নগরীর ডেল্টা ক্লিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মানুষের কল্যানে কাজ করা মেহমানকে আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

#লেখক: প্রধান শিক্ষক, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় ও সভাপতি- বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন