নীড়পাতা সকল বিভাগ উপসম্পাদকীয় বদলে যাওয়া পথ পদর্শক এক মেয়র

বদলে যাওয়া পথ পদর্শক এক মেয়র

113
0

মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম :  বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ফুটপাত এখন পরিচ্ছন্ন। শহরে নেই যানজট। নোংরা-ময়লা পরিষ্কারে নেয়া হয়েছে যাথাযথ উদ্যোগ। নতুন কোন আগন্তুক এই শহরে পা দিলে সহজেই তার কাছে উপজেলাবাসীর সুনির্মল রুচির কথা মনে হবে। এই শহরকে গড়ে তোলা হবে প্রয়াত প্রমথ নাথ দাসের স্বপ্নের শহরে, এখানে স্মৃতিচিহ্ন আঁকা হবে পন্ডিত রঘুনাথ শিরোমনির। জীবনের ওপার থেকে উত্তরসূরীদের এই গোছালো বসবাস দেখে শান্তির নিদ্রায় যাবেন ড. জিসি দিব, শহীদ মনু মিয়া, কমরেড অজয় ভট্রাচার্যসহ বর্তমান প্রজন্মের পূর্বসুরীরা। এইতো কদিন মাত্র, শহরে পায়ে হাঁটা ছিল যেখানে দুষ্কর-সেখানে একটি দৃঢ়চেতা সিদ্ধান্ত সবকিছু পরিবর্তন করে দিল। এই পরিবর্তিত শহরের বাস্তব রুপ দেখার স্বপ্ন নিয়ে পৌরবাসী বেছে নেন এক স্বপ্নবাজ যুবক মো: আব্দুস শুকুরকে। যিনি কিশোর বয়স থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। লন্ডনের পারিবারিক বন্ধন এবং উন্নত জীবনের হাতছানি, কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। তিনি এই শহরের অভিভাবক হয়ে পৌরবাসীর চোখ খুলে দিয়েছেন, হৃদয় করেছেন আলোকিত। তাই নিজের ক্ষতি সত্ত্বেও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা নিমিষেই সরিয়ে নিয়েছেন অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক-সামাজিক চাপ, সমাজপতিদের চক্ষুরাঙানী সবকিছু বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করে জনমানুষের বাহবা কুঁড়িয়েছেন তিনি। সকাল-দুপুর-রাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পথ দেখাচ্ছেন আলোর বিচ্ছুরণের। গভীর রাতেও ছুটে আসছেন উন্নয়নের সারথি হতে। কে জানে হয়তো হৃদয়ে সারাক্ষণ লালন করছেন সুকান্ত’র সেই পংক্তিমালা-‘আমি প্রাণপনে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল/ এই বিশ^কে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।’ সম্প্রতি মেয়রের সিদ্ধান্তে পৌরশহর ও শহরতলী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় বিয়ানীবাজার পৌরসভা। অস্থায়ী মাছ ও সবজি বাজার উচ্ছেদের পর পৌরসভা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযানে শুরু করে। এই ক’দিন দিনভর দুর্বল স্থাপনাগুলো সরানোর পর রাতে স্থায়ী ও শক্তভাবে তৈরী অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। মূলত: মূল ভবনের সাথে পরবর্তীতে স্টিল ও টিন দিয়ে যুক্তকরা অংশগুলো উচ্ছেদ করা হয়। খালিশহরের দুর্ঘটনা এড়াতে রাতকেই বেঁচে নেয় পৌরসভা। পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে পৌর মেয়র ও তার পরিষদ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ, ডাস্টবিন সরবরাহ করলেও তাদের গলারকাঁটা ছিল অস্থায়ী বাজার। এ কারণেই শহরটি ময়লা ও দুর্গন্ধের জন্য দেশের মধ্যে অপরিচ্ছন্ন পৌরশহরের একটিতে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত অস্থায়ী বাজার সরানো এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শহরের দিকে কয়েকধাপ এগোয় এই পৌরসভা। শহরের সবজি বাজার স্থানান্তর করা হয় নব-নির্মিত কিচেন মার্কেটে। মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী করে জায়গা নির্ধারণ করা হয়। বিভিন্ন সড়কের সংস্কার কাজ ও ড্রেণ নির্মাণ কাজ চলছে জোরালোভাবে। এই কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে মেয়র মো. আব্দুস শুকুর স্থানীয় ব্যবসায়ী, সূধীজন, সাংবাদিকদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করেছেন। সবার সহযোগীতায় একটি আদর্শ শহর গড়তে তাঁর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর বলেন, ‘উচ্ছেদে কোন পেশী শক্তি বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারবে না। আমরা তাকে দাঁড়াতে দেব না। কোন রাজনৈতিক শক্তিও পরিচ্ছন্ন নগরি গড়তে প্রতিবন্ধক হতে পারবে না। আমরা অবিচল লক্ষে এগিয়ে যাব।’ বিয়ানীবাজার পৌরসভার দিনবদলের শুরু গত বছরের ৮ মে। নির্বাচিত নতুন পরিষদ ২৩মে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এরপর পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী পৌরসভায় উন্নীত করতে কাজ শুরু করেন মেয়রসহ কাউন্সিলরা। জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গিকার বাস্তবায়নে তাঁদের দলগত কর্মকৌশল সফল হোক-এ জনপদের এক ক্ষুদে মানুষ হিসেবে এই চাওয়া বেশী কিছু নয়।-সম্পাদক, সাপ্তাহিক আগামী প্রজন্ম ও সাধারণ সম্পাদক, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন