নীড়পাতা খেলাধুলা ক্রিকেট বিয়ানীবাজার ক্রিকেটে আমাদের পথচলা – মোঃ নাজিম উদ্দিন

বিয়ানীবাজার ক্রিকেটে আমাদের পথচলা [১ম পর্ব -২য় অংশ] – মোঃ নাজিম উদ্দিন

কখনো কখনো স্কুল ফাঁকিতে ধরা পড়ে স্যারদের বেত্রাগাতও সহ্য করতে হত। সেই সময়ের ক্রিকেট ক্রেজ আমাদেরকে এতটা আন্দোলিত করেছিল যে তখন থেকেই আমাদের সত্যিকার অর্থে হাতে কলমে ক্রিকেট চর্চা শুরু। এখনও মনে পড়ে তখন ক্রিকেট সরন্জামের এত দাম ছিলো যে আমাদের মতো স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের ক্রিকেট সরন্জাম কেনার সামর্থ্য ছিল না। তবে তখন বন্ধু সৌরবের আব্বা শ্রদ্ধেয় ভানু লাল উকিল এবং বন্ধু শিলুর আব্বা ডাঃ আকমল হোসেন চাচার কিনে দেয়া ক্রিকেট সরন্জাম দিয়ে আমাদের ক্রিকেট চর্চার শুরু। তখন স্কুলের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কখনও সৌরভের বাসার সামনে আবার কখনও শিলুর বাসার সামনে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে চলতো ক্রিকেট চর্চা।সীমিত সরন্জাম দিয়েও আমি, সৌরভ, শিলু, আরাফাত এবং তাদের দুই ভাই সহ আশে পাশের আরও কিছু সহপাঠি মিলে ক্রিকেটের চর্চা শুরু করি। প্রতিদিন ভাগাভাগি করে চলতে থাকে আমাদের সীমিত পরিসরে ক্রিকেট চর্চা। তখন বিয়ানী বাজারে কোথাও তেমন একটা ক্রিকেট চর্চা ছিলো না। এমনকি অনেকে আমাদের খেলা নিয়ে হাসাহাসি করতেন। কারন খেলাটির নিয়ম কানুন অনেকের কাছে তখন অপরিচিত ছিল। সারাদেশেও খেলাটির তেমন জনপ্রিয়তা তখন ছিল না। অথচ দেশে এখন এমন কোন লোক নেই যারা ক্রিকেট খেলা বুঝেন না। তখন চারিদিকে ছিল ফুটবলের জয়গান। এভাবে সীমিত পরিসরে ১৯৮৭ সাল থেকে ৮৯ সাল পর্যন্ত স্কুলের ফাঁকে ফাঁকে অথবা কখনো ছুটির পর আমরা ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতাম। তারপর এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৯০ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর আমি এবং সৌরভ সিলেট চলে আসার পর বন্ধু শিলু, আরাফাত সহ আরও কিছু সহপাঠি মিলে চলতে থাকে ক্রিকেটের চর্চা। কলেজ বন্ধ হলে যখন বাড়িতে আসতাম তখন মাঝে মধ্যে বন্ধু শিলুদের সাথে খেলায় যুক্ত হতাম।তখন একজন মানুষের কথা স্মরন না করলেই নয়, তিনি লিটল বার্ড কিন্ডার গার্ডেনের প্রিন্সিপাল জনাব মাহবুবুর রহমান স্যারের কথা। তৎকালিন সময়ে উনার মতো ক্রিকেট প্রেমী আমি আর কাউকে দেখিনি। তখন ক্রিকেট খেলা শুনলেই তিনি চলে আসতেন মাঠে এবং সবাইকে উৎসাহ ও পরামর্শ দিতেন।বিয়ানী বাজারে ক্রিকেট প্রসারে উনার ভুমিকা অনস্বীকার্য়। তবে সেই সময় বিয়ানী বাজারে হাতে গোনা কিছু ক্রিকেট প্রেমী নিয়মিত ক্রিকেট চর্চা করতে থাকেন।এভাবে ক্রিকেট চর্চা চলতে চলতে সামনে চলে আসলো ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ। ৯২ বিশ্বকাপের লক্ষনীয় বিষয় ছিল বিয়ানী বাজারের প্রচুর ক্রিকেট প্রেমী বিশ্বকাপ দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। আর ৯২ বিশ্বকাপেই সর্বপ্রথম রঙিন পোশাকের সুচনা হয়।তার আগের সবগুলো বিশ্বকাপ হয় সাদা-কালো জার্সি পড়ে। মুলত ইমরান খানের তখন জনপ্রিয়তা তুঙ্গে এবং ৯২ বিশ্বকাপে ইমরান খানের পাকিস্তান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলে খেলাটির প্রতি অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ঠিক তখন থেকে বিয়ানী বাজারে ক্রিকেটের প্রসার ঘটতে থাকে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ৯২ বিশ্বকাপের পর বিয়ানী বাজারে ক্রিকেট দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। তখনকার প্রজন্ম আস্তে আস্তে ক্রিকেটের প্রতি ঝুকতে থাকে।এককথায় ৯২ বিশ্বকাপের পর বিয়ানীবাজারে ক্রিকেটের একটা বিপ্লব সাধিত হয়। ৯২ বিশ্বকাপ চলাকালিন এবং তার পরবর্তীতে যারা বিয়ানী বাজারের ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হতে থাকেন এবং তখনকার সময়ে তারকা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাদের নিয়ে লেখা শুরু করবো দ্বিতীয় পর্বের লেখায়।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন