নীড়পাতা শিল্প সাহিত্য গল্প মাছুম আহমেদ এর ছোট গল্প ‘অপূর্ণতা’

মাছুম আহমেদ এর ছোট গল্প ‘অপূর্ণতা’

165
0

অপূর্ণতা…

মাছুম আহমেদ

শ্রাবনের পড়ন্ত বিকেল, দিনামেত্ম অঝর বৃষ্টির শেষে এক পশলা সোনালী রোদে ধরণীতে অনাবিল সস্থির ছোঁয়া বয়ে যাচ্ছে। আজ এমন একটি মুহুর্তে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলাম না। হয়তো ইচ্ছে ও করলো না। এত দিনের লজ্জা আর সংকোচনকে উপেক্ষা করে ছাদে উঠলাম, তোমাকে শেষ বারের মত দেখতে। আজ তুমি স্ব-পরিবারে লন্ডন চলে যাচ্ছ। হয়তো আর কখন ফিরে আসবে না। বিদায়ের পর্বটা বোধ হয় আগেই সেরে ফেলেছ। তাইতো সবার আগেই চির পরিচিত রাস্তায় পাঁয়চারী করছ। দূর থেকে দাঁড়িয়ে আমি তোমাকে দেখছি। অনেক বছর আমরা পাশাপাশি বাসায় ছিলাম। কখনও কথা হয়নি তোমার সঙ্গে। তবে চোখে চোখে ঠিকই হয়েছে। আর রাস্তা দিয়ে যখন চলতাম মাঝে মাঝে তোমাকে দেখার লোভটুকু সামলাতে না পেরে তোমারি খোলা জানালার পানে চেয়ে থাকতাম। তুমি কার্নিশ ধরে উদাস নয়নে আমায় দেখতে।

তোমারি অজান্তে দক্ষিনা সমীরণে দোল খেয়ে ঐ খোলা কেশ আমাকে নিভৃতি হাতছানী দিত। যা আমার হৃদয় সমুদ্র ভালবাসার ফেনিল ঢেউ উত্তাল করে তুলতো। তা কখনো জানতে না। মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলার সময় আমি যখন ব্যাট করতাম তখন অজানা আর্কষনে বলটি ছুটে যেতো তোমার বাসার আঁঙ্গিনায়। ওপাশ থেকে বলটি কুঁড়িয়ে আমার দিকে মৃদু হেসে বলটি ছুয়ে দিয়ে পালিয়ে যেতে, তখন কি না আনন্দ আমার মনে ঘুরপাক খেত। মনে হত কোন এক চপলা হরিণী গভীর অরন্যে নিজেকে অড়াল করেছে।

একদিন আমাকে দেখিয়ে তোমাদের ছাঁদের দেয়ালে কি যেন লিখে চলে গেলে। তোমার হৃদয় নিংড়ানো লেখাগুলো অবলোকনের জন্য ঐদিন আমাকে একটি দূরবীন কিনতে হয়েছিল। দেয়ালের মধ্যে বড় বড় অক্ষরে লিখেছিলে ১-৪-৩। সেদিন সারারাত আমি সংখ্যা গুলোর বিশ্লেষণ খোঁজেছি। যখন ১-৪-৩ এর বিশেস্নষণ খোঁজে পেলাম, তখন দেয়ালে ঝুলন্ত ঘড়ির কাটা জানান দিল রাত ৩টা বাজে। কি আর করা নিদ্রা দেবীকে ঐ রাতের জন্য বিদায় জানিয়েতোমার কাছে এক টুকরো চিরকুট লিখেছিলাম। তুমি লিখাটি পড়ে প্রতি উত্তরে দূর হতে এক ঝিলিক মুক্ত ঝরা স্নিগ্ধ হাসি উপহার দিয়েছিলে, জানিনা সে দিন তোমার হাসিতে কি ছিল। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। তবু ভুলতে তোমায় আজও পারিনি। আজ তুমি চলে যাচ্ছ আমার সীমানা ছাড়িয়ে অনেক অনেক দূরে, কোন এক স্বপ্নীল জীবনের সন্ধানে। হয়তো এ নশ্বর অবনীতে তোমার সাথে আর দেখা হবে না। তবুও তোমার স্মৃতি হৃদয়ে অাঁকড়ে ধরে শূণ্য জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতিক্ষায় থাকবো। হয়তো তুমিও জীবন স্রোতের বাঁকে দু‘চোখের অশ্রম্নতে খোঁজবে আমায়। তখন হয়তো আমি এ ধরার বন্ধন ছিন্ন করে থাকবো কোন এক মাটির ঘরে।

এক এক করে সকলে গাড়ীতে উঠতে লাগল। সকলের শেষে গাড়ীতে উঠার পূর্বে বিরহী আননে আমার পানে এক পলক চেয়ে নিলে। সে চাহুনী আমাকে জানিয়ে দিল তোমার অমত্মরে কেবল লন্ডনে যাওয়ার আনন্দ বিচরিত নয় অনেক কিছু হারানোর চিহ্নও পুস্পিত। ভেবেছিলাম তোমার চোখ ফাঁকি দিয়ে কেবল আমি তোমাকে দেখছি, কিন্তু বিদায়ের শেষ চাহুনী বুঝিয়ে দিল হৃদয় নেত্রে তুমি আমাকে দেখেছিলে। মুহুর্তে মনে হল আমার হৃদয় মাঝে যে ভালোবাসা লুকিয়ে ছিলো বিদায় বেলায় তা প্রকাশ পেল। তোমার চলে যাওয়ারসে দৃশ্য আমার কষ্টকে আরো বাড়িয়ে দিল। কারণ এ দৃষ্টিতে আমি আমার নিরব প্রশ্নের উত্তর খোঁজে পেয়েছিলাম, কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেল। তাই অপূর্ণতা আজও আমাকে………………………….. ?

লেখক: মাছুম আহমেদ

মোবাইলঃ ০১৮২৭৩৫৪৭১৩, ০১৭১৫৪৫৪৩৯২

Email masumahmed_mrmedia@yahoo.com

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন