নীড়পাতা শিল্প সাহিত্য গল্প মেয়েটির ‘জান’ কেন রিকশাচালক?

মেয়েটির ‘জান’ কেন রিকশাচালক?

72
0

পথে পাওয়া : এবারের বিষয়
মেয়েটির ‘জান’ কেন রিকশাচালক?
লেখক: রণজিৎ সরকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে রিকশায় উঠেছে রীনা। সে যাবে লালবাগ কেল্লার মোড়। পুরান ঢাকার শতবর্ষের পুরনো একতলা-দোতলা ভবন, ঘিঞ্জি অলিগলি, এর মধ্যে অন্যতম হলো শাঁখারিবাজার। শাঁখারিবাজারের গলির ভেতর দিয়ে রিকশা নিয়ে যাচ্ছেন রিকশাচালক। আর রিকশার হুক তুলে ভেতরে বাসে আছে রীনা। তার হাতে মোবাইল ফোন। পাশে ব্যাগ। সে স্মার্ট মোবাইলে ফেসবুকে ব্যস্ত। একটু পর রীনা ফোন থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে দেখে রিকশাচালক অন্য এক গলির ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ গলির ভেতর দিয়ে গেলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে রীনার অনেক সময় লাগবে। তাই রীনা সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘এই যে, আপনি কোন গলির ভেতর রিকশা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। পুরান ঢাকার অলিগলি চেনেন না বুঝি। ডানে যান, ডানে গিয়ে সোজা যান। সোজা গিয়ে বামে যান।’
রিকশাচালক বললেন, ‘ঠিক আছে, যেমনে বলবেন, সেমনে যামু। আমি তো ঢাহা শহরে নতুন আইছি। পুরান ঢাকার সব অলিগলি এখনো চিনে উঠতে পারিনি।’
‘ঠিক আছে। আপনাকে চিনিয়ে নিয়ে যাব। যেভাবে বললাম সেভাবে যাবেন, কেমন।’
‘জি।’
রীনার কথা মতো এবার রিকশাচালক জোরে জোরে চালাতে লাগল রিকশা।
রীনা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বলল, ‘দেখছেন না, রাস্তা খারাপ। একটু ধীরে যান।’
‘জি ম্যাডাম। তা হলে ধীরে যাইতেছি।’
‘তাই যান।’
রিকশাচালক এবার খুব ধীরে ধীরে রিকশা চালাচ্ছেন। খারাপ রাস্তা পার হওয়ার পরও রীনা দেখল। রিকশাচালক ধীরে ধীরে যাচ্ছেন। রীনা তখন রিকশাচালককে বলল, ‘এই যে, এখন একটু জোরে জান। কিন্তু সোজা যান।’
রিকশাচালক এবার সোজা যেতে লাগলেন। রীনা আবার বলল, ‘এত জোরে যাবেন না। দুর্ঘটনা হতে পারে। মাইক্রোবাসের পেছন পেছন যান।’
‘জি ম্যাডাম।’
ধীরে ধীরে এবার লালবাগ মোড়ে চলে এল রিকশা। রিকশার গতি কমাতেই রিকশাচালককে রীনা বলল, ‘আর একটু আগাইয়া জান। ডানে গিয়ে থামান।’
রিকশাচালক তাই করলেন। রীনা ব্যাগ থেকে পঞ্চশ টাকার একটা নোট বের করে দিয়ে বলল, ‘এবার আপনি খুশি হয়ে অন্য যাত্রীকে নিয়ে চলে যান।’
রিকশাচালক টাকা নিতে নিতে বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনাকে একটা কথা বলুম?’
‘কি কথা?’
‘রাগ করবেন না তো।’
‘না। আপনি বলে যান। আমি শুনব।’
‘আপনার মনের মানুষকে কি জান বলে ডাহেন?’
রীনা রিকশাচালকের কাছ থেকে এমন কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল, ‘কেন?’
‘রিকশায় উঠার পর থেকে আপনি কত বার বললেন- সোজা যান, ডানে যান, বামে যান, ধীরে যান, জোড়ে যান, একটু ঘুরে যান, আরেক আগাইয়া যান, একটু পেছনে যান, সামনে যান। তাই মনে হলো আপনার মনে মনের জানপাখি মানুষটা হয়তো অপেক্ষা করছে, সে জন্য বার বার যান যান বলে যাচ্ছেন। তাই বললাম।’
রীনা অবাক হলো। ভাবল তাই তো। খুশি হয়ে বিশ টাকার একটা নোট বের করে দিল রিকশাচালককে। এর মধ্যে রীনার বয়ফ্রেন্ড রণক এসে উপস্থিত। রণকের ডান হাত ধরে রিকশাচালক কে বলল, ‘এই আমার জান।’
খুশিতে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল ওরা।

লেখক: রণজিৎ সরকার , কথা সাহিত্যিক

 

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন