নীড়পাতা সকল বিভাগ কৃষি যেভাবে তৈরি করা যায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান -জাহাঙ্গীর আলম তরফদার

যেভাবে তৈরি করা যায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান -জাহাঙ্গীর আলম তরফদার

যেভাবে তৈরি করা যায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান
জাহাঙ্গীর আলম তরফদার

কৃষকের ফসলকে সোনার সাথে তুলনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেশি করে ফসল ফলানোর ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব। তিনি সময়োপযোগী ভাবনা থেকে বলেছেন যে, করোনাভাইরাসের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অবস্থার মতো ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সুতরাং আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনার ১৫ নং দফায় তিনি বলেছেন যে, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করার দরকার করতে হবে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে। বাংলাদেশের মতো অধিক জনসংখ্যার ছোট্ট ভূখণ্ডে করোনাভাইরাস উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বসত বাড়ির আশেপাশে, আঙিনায় এমনকি সব পতিত জমিতে শাক সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য ফসলের চাষ করতে হবে। সে লক্ষ্যে বাড়ির আঙিনায় শাক সবজির চাষাবাদ হতে পারে। এতে করে উদ্যাণ ফসলের উৎপাদন বাড়বে। এটি একটি পারিবারিক পুষ্টি বাগান হয়ে উঠবে। পরিবারের সদস্যদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক সবজি খেতে হয়। তাই নিজেদের বসত বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে গড়ে তুলতে হবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান।
এ ধরনের চাষাবাদের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ১৯ ফুট চওড়া একখন্ড জমিকে পাঁচটি ব্লক বা বেডে ভাগ করা যায়। প্রতিটি বেড বা খন্ডের প্রস্থ হবে ২.৬ ফুট এবং প্রতি দুটি বেডের মাঝখানের নালা হবে ২৫ সে.মি। অঞ্চলভেদে বেশ কয়েকটি সবজি চাষের মডেল আছে। এগুলোর মধ্যে কালিকাপুর মডেলটি অনুসরণ করা যেতেপারে। এ মডেলটি ১৯৮৫-৯০ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কালিকাপুরে উদ্ভাবিত হয়েছিল।এ ক্ষেত্রে প্রথম বেডের জন্য সবজির বিন্যাস হবে মূলা/ টমেটো- লালশাক- পুঁইশাক। দ্বিতীয়টির জন্য, লালশাক এবং বেগুন-লালশাক- ঢেঁড়স। তৃতীয়টির জন্য, পালংশাক- রসুন/ লালশাক- ডাঁটা- লালশাক। চতুর্থ খন্ডে বাটি শাক- পেঁয়াজ/ গাজর- কলমী শাক- লালশাক। পঞ্চম খন্ডের জন্য বাঁধাকপি- লালশাক- করলা- লালশাক।
চলতি গ্রীষ্মকাল আর আসছে বর্ষা মৌসুম। শাক সবজির চাষের জন্য শীতকাল বেশ উপযোগী, গ্রীষ্ম- বর্ষায় তা কষ্টসাধ্য। তবে উপযোগী ব্যবস্থাপনায় একটু সতর্কতার সাথে এ সময়েও মৌসুমি সবজির চাষ করা যায়। এসময়ে যেসব সবজির চাষ করা যায় তা হলো- বর্ষাতি করলা (এপ্রিল – জুন), বরবটি (জুলাই পর্যন্ত), বেগুন (জুলাই – সেপ্টেম্বর), পুঁইশাক (ফেব্রুয়ারি- জুন), বাটি শাক (সারাবছর), লালশাক (সারাবছর), গীমাকলমি শাক, ডাঁটা শাক এছাড়াও মানকচু, মৌলভী কচু, পটোল, শসা এবং ঝিঙা।
চাষের জন্য জমি নির্বাচন করে তা ভালভাবে তৈরি করতে হবে। আলো, বাতাস, পানি সেঁচের ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখতে হবে। গাছের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বে মাদা তৈরি করে চারা দিতে হবে। গাছ বড় হতে থাকলে বাউনি বা মাচা তৈরি করে দিতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি পরিমাণমতো জৈব সার ও অন্যান্য সার দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। রোগ বালাই বা ক্ষতিকর পোকা দেখা দিলে জীবজ দমনের চেষ্টা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাগণের সহায়তায় অনুমোদিত কীটনাশক নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।
এধরণের পারিবারিক পুষ্টি বাগান করার ক্ষেত্রে পরিবারের সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে। দেহ মনকে সতেজ ও সজীব রাখা এবং কায়িকশ্রমের চর্চা করার জন্য এটি একটি উত্তম উপায়। প্রত্যেকটি বসত বাড়িতে এ ধরনের আয়োজনে সবাই উপকৃত হবে।
আসুন আমরা আমাদের অবসর সময়টুকু পুষ্টি বাগানের জন্য ব্যয় করি। হরেকরকমের শাক সবজির চাষ করি।পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সমর্থ হই, নিজে লাভবান হই। দেশের সামগ্রিক পুষ্টি ঘাটতি পূরণে অংশগ্রহণ করে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলি। (তথ্যসূত্রঃ কৃষি বাতায়ন)

প্র

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন