নীড়পাতা খেলাধুলা রাজিন সালেহ : ক্রিকেটের এক কিংবদন্তী

রাজিন সালেহ : ক্রিকেটের এক কিংবদন্তী

162
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

বাংলাদেশের ক্রিকেট আগের মতো নেই। এখন অনেক এগিয়ে গেছে। আগে বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেট দল বাংলাদেশকে অন্য চোখে দেখতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশকে কোনো দল ছোট করে দেখে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গত পাঁচ বছর ধরে অনেক ভালো খেলছে।

খন্দকার রাজিন সালেহ আলম এক ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ পরিবার থেকে উঠে আসা কিংবদন্তীর নাম। সিলেটের এই কীর্তিমান ক্রিকেটার ১ম শ্রেণির ক্রিকেটকে রাজসিকভাবে বিদায় জানান অনেকটা দুঃখপ্রবণ হয়ে। জীবনের শেষ ম্যাচে উভয় ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন।

বাংলাদেশ অভিষেক টেস্টের দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন। সিলি পয়েন্টে ধরেছিলেন টেন্ডুলকারের ক্যাচ। এরপর ক্রমেই নিজেকে মেলে ধরেছেন ক্রিকেটের সবুজ গালিচায়। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। বাইশ গজে দুর্দান্ত বোলারদের বুক চিতিয়ে মোকাবেলা করেছেন। দেশের সবচেয়ে ফিট ক্রিকেটারের খেতাব অর্জন করেছেন। সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে সবার কাছে রাজিন সালেহ ‘রাজিন ভাই’ হিসেবে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই শ্মশ্র“মন্ডিত মানুষটির ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হননি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। মাঠের এই বীর সেনানী ক্রিকেট ছাড়ার আগেই জড়িয়েছেন আগামীর ক্রিকেটার গড়ার কাজে। ক্লেমন সুরমা ক্রিকেট একাডেমি গড়ে সিলেট থেকে আগামীর রাজিন, তাপস, অলক, এনামদের বের করে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্রিকেটের উন্নয়নের সাথে সিলেটকেও এগিয়ে নিতে কাজ করছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ। তিনি চান- সিলেট যেন কোনকিছুতেই পিছিয়ে না থাকে। সিলেটের তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় ও আন্তর্র্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করাই তার মূল লক্ষ্য। সিলেটের মানুষ এখন ঘরের কোণে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারতেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিলেটের খেলোয়াড়দের নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। এর জন্য তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এর সহযোগীতা চান। তিনি মনে করেন, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল তার পাশে থাকলে একদিন তিনি সিলেট থেকে তৈরী করতে পারবেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

তিনি মনে করেন, সিলেট থেকে ভালো খেলোয়াড় বের হচ্ছে না। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জাতীয় দলের আশেপাশে কেবল জাকির হাসান আছে। এ ছাড়া আর ব্যাটসম্যান নাই। সিলেট দলও জাতীয় লিগে ভালো ফল পায় না অনেকদিন। ছেলেরা পরিশ্রম করে, কিন্তু ভালো ফল আসছে না। তিনি মনে করেন, এখানে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ সুবিধা এই ছেলেরা পাচ্ছে না। আমি সেটা করতে চাই। বাংলাদেশের ক্রিকেট আমাকে অনেক দিয়েছে। আমি এখন ক্রিকেটের জন্যই কিছু করতে চাই। রাজিন সালেহ এর এ কথায় সিলেট প্রেম বুঝা যাচ্ছে। সিলেটের জন্য তিনি অনেক কিছু করতে চান। সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ সিলেটকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। সিলেটে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। সিলেটের তরুণরা এখন ক্রিকেটে আরও আগ্রহী হবে। তারা চোখের সামনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের বিশালত্ব দেখে বড় হবে, স্বপ্ন দেখতে পারবে।

স্বল্প মেয়াদের জন্য হলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৪৩টি ওয়ানডে খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন প্রায় ১৮ বছর। ২০০৮ সালে শেষ ম্যাচ খেলেছেন। ২০১১ আর ২০১২ সালে তিনি জাতীয় লিগে সেরা দুই রান সংগ্রাহকের মধ্যে ছিলেন। রাজিন সালেহী- বাংলাদেশ দলে খেলেছেন। জাতীয় লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ খেলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। কিন্তু এখন দেশে যে কম্পিটিটিভ ক্রিকেট শুরু হয়েছে, তাতে যুদ্ধ করে টিকে থাকাটা খুব কঠিন। তাই তিনি খেলা থেকে বিদায় নিয়েছেন।

আমি খুব কাছ থেকে রাজিন ভাইকে দেখেছি। আসলেই তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। একজন ক্রিকেট প্রেমী, সিলেট প্রেমী। সিলেটকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে রাজিন ভাইয়ের মতো মানুষের খুব প্রয়োজন।
অবশেষে সিলেটের এ মহান ব্যক্তিকে জানাই শুভেচ্ছা। উনার দীর্ঘায়ূ ও সুসাস্থ্য কামনা করি।

লেখক: মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম
ব্যক্তিগত সহকারী- সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন