নীড়পাতা বাংলাদেশ সিলেট শ্রীধরা_গ্রামের_গুণী_ব্যক্তি : নাটকের এক ফেরিওয়ালা ফয়জুল আলম

শ্রীধরা_গ্রামের_গুণী_ব্যক্তি : নাটকের এক ফেরিওয়ালা ফয়জুল আলম

61
0

আতাউর রহমান

সিলেটের নাট্যকার, ক্রীড়া সংগঠক ও সর্বজন পরিচিত এক শিক্ষকের নাম ফয়জুল আলম। তাঁর কাছে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবধর্মী। তিনি মানুষের জয়গান করে ঘুরে বেড়ান। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় অবসর জীবনযাপন করছেন।

#জন্ম:
সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শ্রীধরা গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে ১৯৪৫ খ্রিস্টীয় সনের ৩১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলানা মোহাম্মদ ফুরকান আলী ও মাতার নাম মোছাম্মত উদইজান বিবি। পরবর্তীতে খাসা পণ্ডিতপাড়ায় নতুন বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন।

#শিক্ষা জীবন:
ফয়জুল আলমের লেখাপড়া শুরু শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাসা দীঘির পার মাইনর স্কুলে। পরবর্তীতে ভর্তি হন পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ স্কুলে। ১৯৬৩ সনে মেট্রিকুলেশন শেষ করেন। ১৯৬৪ সনে সিলেট জিন্দাবাজারস্থ জাহেদ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউশন থেকে শর্টহ্যান্ড ও টাইপিং শিক্ষা গ্রহণ করেন।

#কর্মজীবন :
ফয়জুল আলম প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কর্মের সন্ধানে ১৯৬৫ সনে ঢাকায় পাড়ি দেন। ১৯৬৬ সনে পাকিস্তান টবাকো কোম্পানিতে চাকুরির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে গমন করলে একই গ্রামের নাট্যকার তাজ উদ্দিন আহমদ ও আঙ্গারজুর গ্রামের ক্লাসমেইট মাহমুদ (আনোয়ারা জুটমিলের সসুপারভাইজার) এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটে। তাদের পরামর্শে ও সহযোগিতায় সেখানে রাউজান ফকির হাটের মোহাম্মদপুর জুনিয়র হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তখন তিনি রিয়াজ উদ্দিন বাজারের স্টেশন রোডে থাকতেন। সেখানে পরিচয় ঘটে চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নানের সাথে। তার হাত ধরেই ফয়জুল আলমের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগাদান করেন। চট্টগামে থাকার সুবাদে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সাথে সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা হয়। চট্টগ্রামের অশান্ত পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিহারী-বাঙালি দাঙ্গার কারণে ১৯৬৭ সনে সেখান থেকে ট্রান্সফার নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বিয়ানীবাজারে এসে চট্টগ্রামের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা, নাট্যাভিনয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেধা ভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাজে মনোযোগ দেন। বিয়ানীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

#খেলাধুলা_বিনোদন:
বিয়ানীবাজারের স্কুল কেন্দ্রীক সকল ধরণের খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন আলম স্যার। তিনি গান, নাটক, কবিতা চর্চার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করতেন। বিয়ানীবাজারের ছাত্রছাত্রীদেরকে উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ, বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। যার ফলে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

#লেখালেখি_ও_প্রকাশিত_গ্রন্থ:
মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে শুধু ত্যাগের ইতিহাসই নয়, মুক্তিযুদ্ধ রক্তস্নাত শানিত জীবনের শিল্প বটে। যুদ্ধ জয়ের গল্প শুধুই কাগজে ছাপা থাকে না, যুদ্ধের পটভূমি নিয়ে এখন প্রজন্মরাও আঁকতে জানে। যেমন করে ফয়জুল আলম ১৯৬৯ সনে গণআন্দোলনের সময়ের অত্যাচার, অবিচার, স্বাচ্ছাচারিতার উপর ‘ভুল যখন ভাংলো’ নাটকটি লিখেন। তখন হুলস্থল শুরু হয়ে যায়। বিয়ানীবাজার কলেজে এটি একাধিকার মঞ্চস্থ করা হয়। ১৯৭১ সনে ‘বিস্ফারণ’ নাটকটি লিখলেও ১৯৭৩ সনে পিএইচজি স্কুল, সিলেট পলিটেকনিকেল কলেজে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। তখন নাট্যকার কিছু অপ্রিয় লোকের হুমকির কবলে পড়েন। বাংলাদেশের ২৫বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর লিখা ছোটদের মুক্তিযুদ্ধ “মুক্তি এলো দেশে” নাটকটি উপজেলা চত্বরে মঞ্চস্থ হয়।
নাট্যকার ফয়জুল আলমের লেখা নাটকের সংখ্যা সাতটি: ভুল যখন ভাংলো, বিদ্রোহী, বিস্ফারণ, রক্তের টান, সীমান্তের দুশমন, পথ হারা পথে, ছদ্মবেশী। এছাড়াও তিনি একাধিক সময়ের সংলাপ, ঘুরে এলাম ভারত, বড় মামার দেশে (ভ্রমণ কাহিনী), প্রতিচ্ছবি (কবিতাগুচ্ছ), কুশিয়ারা-শ্যামল (ম্যাগাজিন) উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং জীবনের জন্যে শিল্পচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর বাস্তববাদী লিখা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

#লেখক: প্রধান শিক্ষক, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় ও সভাপতি- বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব। বাড়ি -শ্রীধরা।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন