নীড়পাতা প্রবাসের সেতুবন্ধন শ্রীলংকায় এ কেমন বাংলাদেশ?

শ্রীলংকায় এ কেমন বাংলাদেশ?

46
0

লিখা : দুর্জয় দাশ গুপ্ত

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন ফুরফুরে মেজাজে। প্রশ্ন উঠেছিলো তার ফিটনেস নিয়ে। উত্তরে তিনি বলেছেন “শেষ দুদিন অনুশীলন করেছি, সমস্যা হয়নি।” শেষ হলো সংবাদ সম্মেলন। আবার ফিরে গেলেন অনুশীলনে। সন্ধ্যা ৭টা। আবার বল হাতে ম্যাশ। কিন্তু পনের মিনিট পরেই দেখা গেল মাটিতে পড়ে আছেন টাইগার দলপতি। আবার হ্যামস্ট্রিংয়ে পড়লেন মাশরাফী বিন মর্তুজা। জানা গেল তিন সপ্তাহের জন্য মাঠ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি। কিন্তু এখানেই কি শেষ? একটু পরে জানা গেল শ্রীলংকা যাওয়া হচ্ছে না সাইফুদ্দিনেরও। ম্যাশ আর সাইফুদ্দিনের জায়গায় ডাক পেলেন ফরহাদ রেজা আর তাসকিন আহমেদ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান হজ্ব করতে ছুটি নিয়েছেন আগেই। লিটন কুমার দাসও বিয়ের জন্য ছুটিতে। এমন অবস্থায়
অধিনায়কত্ব কার কাঁধে উঠবে এটা নিয়ে উঠেছিলো প্রশ্ন। অনেকেই নিজের মত করে মাহমুদউল্লাহকে বানিয়ে দিয়েছিলেন দলপতি। কিন্তু বোর্ড হাঁটলো উল্টা পথে। প্রথমবারের মত ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব পেলেন তামিম ইকবাল। এর আগে অবশ্য ২০১৭ সালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই ড্যাশিং ওপেনার।

তামিম ইকবালের ফর্ম নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বকাপ থেকেই। দেশে ফিরেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন একা একা। ফর্ম নিয়ে যে মহা টেনশনে এই ওপেনার সেটা বুঝা যাচ্ছিল। এমন এক অবস্থায় তার কাঁধে উঠলো পুরো দলের ভার। নিজের ব্যাটে রান নেই। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না একদমই। তবে কি পাহাড় সমান চাপ থাকবে তার মাথায়? নাকি নিজের যোগ্যতা এবার কেবল ব্যাটে না নেতৃত্ব দিয়েও প্রমাণ করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

ইতিমধ্যে স্বাগতিক শ্রীলংকা তাদের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে। যেখানে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বকাপে উপেক্ষিত কিছু ক্রিকেটারও। আর বিশ্বকাপে ছিলেন কিন্তু এখন বাদ পড়লেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা ৪। ২২ জনের স্কোয়াড দেখে বলাই যায় শক্তিশালী একটা দল ঘোষণা করেছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। তার উপর তাদের হোম গ্রাউন্ডে খেলা। নিঃসন্দেহে তামিম ইকবাল আর বাংলাদেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ যাদের উপরে ভরসা সেই পঞ্চ পান্ডবের দুজনকে পাওয়া যাচ্ছে না এই সিরিজে। তামিম, মুশফিক মাহমুদউল্লাহ কি পারবেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সেটা সময়ই বলে দিবে।

একটা কথা এখন অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে আর সেটা হলো পাইপলাইনে প্রচুর প্লেয়ার আছে আমাদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সাকিব, লিটন আর শেষের দিকে মাশরাফী আর সাইফুদ্দিনের ছিটকে পড়াতে দলে স্কোয়াডে দেখা যেতে পারে দুই একজন তরুণ ক্রিকেটারকে। কিন্তু বিসিবি এ ক্ষেত্রেও হেঁটেছে তাদের পুরনো পথে। ভরসা রেখেছে অভিজ্ঞতার উপরে।

তাসকিন আহমেদ আর ফরহাদ রেজা ছিলেন বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে হওয়া ট্রাই-নেশনেও। কিন্তু দুজনের কেউই সুযোগ পান নি একটি সিঙ্গেল ম্যাচ খেলার। এই দুজনের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স জোর দাবি রাখে সুযোগ পাওয়ার। অবশেষে এবারই এসেছে এমন সুযোগ। দুজনই অথবা দুজনের একজন যে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এই সিরিজে সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। এখন নিজেদের সেরাটা দিয়ে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে অনেকদিন পরে আবারো সুযোগ পেলেন আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়। মূলত লিটন দাস ছুটিতে থাকার কারণেই এমন সুযোগ মিলেছে। শ্রীলংকায় ম্যাচ খেলবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে দেখা যাক জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সফল হতে পারেন কিনা।

কয়েকদিন আগেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এই সিরিজে নিজেদেরকে ফেভারিট বলে দাবি করেছেন। কিন্তু তখনো মূল স্কোয়াডে ম্যাশ আর সাইফ। কিন্তু এখন তাদের জায়গায় রেজা আর তাসকিন। এখনো কি নিজেদেরই ফেভারিট ভাবছেন সৈকত? কিন্তু ক্রিকেটে ফেভারিট শব্দটা খুব একটা প্রভাব ফেলে না। মাঠের ক্রিকেটই যে পার্থক্য গড়ে দেয়। এখন দেখার বিষয় মাঠের পারফরমেন্সে টাইগাররা এই সিরিজটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে কিনা।

কলোম্বোতে ২৬ জুলাই প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। ২৮ ও ৩১ জুলাই হবে পরের দুইটি ওয়ানডে। খেলবে একই গ্রাউন্ডেই।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন