নীড়পাতা অন্যান্য খবর স্হানীয় কুরবানির হাট – কবির আহমদ মুন্না

স্হানীয় কুরবানির হাট – কবির আহমদ মুন্না

স্থানীয় কুরবানির হাট
■কবির আহমদ মুন্না:: মুসলমানদের ধর্মীয় বড় ২ টি উৎসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। আর কুরবানির ঈদ মানেই কুরবানির জন্য পছন্দের পশু গরু,ছাগল ক্রয় করা। পশু ক্রয় বিক্রয় কে কেন্দ্র করে ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ জমে উঠে। কুরবানি যাদের উপর ওয়াজিব তাদেরকে কুরবানি করতে হয়। কুরবানির ইতিহাস হযরত ইব্রাহীম(আ:) ও হযরত ইসমাঈল(আ:) এর জীবন পরিক্রমায় একটি ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে কুরবানি ওয়াজিব করা হয়েছে।
■কুরবানির পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ঈদের অনেক আগে থেকে বিভিন্ন হাট বাজার এর প্রস্তুতি শুরু হয় আর স্থানীয় ও প্রফেশনাল অনেক ব্যবসায়ী এই কুরবানির সময়কে বেছে নেয় ব্যবসার জন্য। অনেক ব্যবসায়ী আগে থেকে গরু কিনে কয়েকদিন লালন পালন করে বিক্রি করে আবার অনেকে অল্প কিছুদিন আগে কিনে কুরবানির সময় বিক্রি করে। এখন আবার অনেক স্থানীয় যুবক নিজে থেকে উৎসাহিত হয়ে গরুর খামার করে এই সিজনে অনেক গরু বিক্রি করে। এতে করে লোকাল গরু দিয়ে এলাকার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আবার এর মধ্যেও দেশের বাইরে থেকে আসা গরুতে বাজার ভরপুর আছে। কিন্তু ক্রেতারা গরু কিনার সময় লোকাল গরুর উপর আলাদা দৃষ্টি রাখছে।
আমাদের বিয়ানীবাজারে যে কয়েকটি ইজারাকৃত কুরবানির হাট আছে সেগুলোর বাইরে স্থানীয় ওহাব আলীর দোকান অন্যতম। বিয়ানীবাজার এর ১০ মুড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এর ফেনগ্রামের প্রবেশ মুখে ওহাব আলী চাচার নামে যে স্থানীয় বাজার পরিচিতি পেয়েছে এই বাজারে প্রায় গত ১০/১২ বছর থেকে প্রতি কুরবানির ঈদের সময় ছোটখাটো গরু ছাগলের হাট বসে। দিন দিন এর পরিধি ও বিস্তার বাড়ছে। ফেনগ্রামের এই ওহাব আলী দোকান ও গ্রামের ভিতরের অনেক রাস্তা পর্যন্ত এই হাটের বিস্তার ঘটে। আবার ছোটদেশের একাংশে ও মেইন রোডে এই বাজারের বিস্তার। এখানে মূলত স্থানীয় মুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব মুড়িয়া দক্ষিণ মুড়িয়া অঞ্চলের যারা নিজেদের বাড়িতে গরু পালন করেন এই সব গরু ছাগল এই বাজারে নিয়ে আসেন এজন্য দিন দিন এই বাজারের প্রতি ক্রেতা সাধারনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যেহেতু এখানে কোন ইজারা নাই এজন্য গরু ছাগল কিনার পরে আলাদা কোন চার্জ দিতে হয় না এই বিষটিও ক্রেতাদের মাথায় থাকে। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ও ওহাব আলী দোকানের গরুর হাট জমে উটেছে। আজকে সকাল থেকে সহস্রাধিক গরু এই বাজারে আসে। আর ক্রেতাদের ও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ছোট, বড়, মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় বড় ষাঁড় গরু ও চোখে পড়ে। আজকে ও দেখলাম অনেক গুলো ষাঁড় ওহাব আলী দোকানে নিয়ে আসা হয়েছে। যেগুলো এই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে লালন পালন করা হয়েছে। বড় গরুদের অন্যতম একটি গরু “রেড রোজ” এই নামে বাজারে নিয়ে এসেছেন ফেনগ্রামের আব্দুল বারি কয়েছ। উনার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম এই গরুটি এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দাম উঠেছে। এরকম অনেক বড় বড় গরু এখানে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে ও আমার আলাপ হয়েছে। যেমন আব্দুল্লাহ আল মুতি ভাই বললেন,” এখানে বাজার হওয়াতে এই এলাকার মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে, দেখে শুনে ভালো গরু কিনার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায় আর লোকাল গরুও বাজারে বেশি থাকায় সুবিধা হয়।” একটু আগে তিনি একটি গরু কিনেছেন গরুর মালিক ছিলেন ছোটদেশ গ্রামের তিনি বলেছেন এই গরুটি উনার ঘরে বড় হওয়া গরু এতে ক্রেতা বিক্রেতা দুইজনকেই খুশি মনে হলো। আর একজন ক্রেতা সুলেমান আহমদ মাসুম স্যার বলেন,”কুরবানির ঈদে সবচেয়ে বড় কাজ কুরবানির পশু ক্রয় করা আর এই ওহাব আলী দোকানে বাজার হওয়াতে কাজটা অনেকাংশে সহজ হয়ে গেছে। ” উনি নিজে কুরবানির জন্য একটি গরু ও একটি ছাগল ক্রয় করেছেন এই বাজার থেকে। বেশিরভাগ বিক্রেতা বলেন এই বাজারে কোন প্রকার চাঁদা না থাকাতে এবং এলাকার মানুষের সহযোগীতা থাকায় এই বাজারে কুরবানির পশু ক্রয় বিক্রয় কিরা সহজ হয়।
■আগামীকাল ঈদের আগের দিন শেষ দিনে আশাকরি আরও বেশি গরু ছাগল ক্রয় বিক্রয় হবে। এই বাজারে বিয়ানীবাজার এর প্রায় সব গ্রাম থেকে ক্রেতারা আসেন এই স্থানীয় বাজারে এতে করে বাজারটি জমে উটে। করোনাকালিন এই কুরবানির ঈদে আমাদের সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানির হাটে যাওয়া উচিত। আর আমরা সবাই যাতে কুরবানির জন্য সুন্দর ও পছন্দমত পশু কিনে আল্লাহকে খুশি করার জন্য কুরবানি করতে পারি এই প্রত্যাশা করি।।

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন