নীড়পাতা অন্যান্য খবর হিংসুক-নিন্দুকেরও মেয়র আপনি।ছিদ্দিকুর রহমান

হিংসুক-নিন্দুকেরও মেয়র আপনি।ছিদ্দিকুর রহমান

241
0

সম্ভাবনা ডেস্ক:

ইতিহাস-ঐতিহ্যের সু-প্রাচীন জনপদ পঞ্চখণ্ড তথা বিয়ানীবাজার। এই শহরের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হলেন মোঃ আব্দুস শুকুর। তিনি ১৬ বছর যাবত নির্বাচনহীন পৌরসভার নির্বাচন আদায়ের অগ্রসৈনিক। গণমানুষের আস্থার পাত্র হিসেবে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পৌর নির্বাচনে তাঁকে নৌকার মাঝি করেছিলেন। সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সবার আস্থা ও বিশ্বাসের প্রার্থী হিসেবে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমান সমাজে তিনি তারুণ্যের আলো। এক কথায় তিনি সর্বসাধারণের কাছে এক অনন্য-আসাধারণ ব্যক্তিত্ব। নির্বিকল্পে বলা যায় মোঃ আব্দুস শুকুর এই প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেয়র।

জননেতা মোঃ আব্দুস শুকুর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শুরু করেছেন পৌরসভা সাজানোর কাজ। ভোরের আলো থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষকে ক্রমাগত সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। যা উনার চিরায়ত চরিত্রের পূর্বাতন রীতিনীতি। তিনি শুধুমাত্র পৌরসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, তিনি উপজেলার সকল মানুষের সুখ-দুঃখের নিত্য সঙ্গী। দুই বছরের মধ্যে তিনি দৃশ্যমান টেকসই উন্নয়ন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেছেন। চলমান উন্নয়নের পাশাপাশি পৌরশহরের সৌন্দর্য বর্ধনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই অগ্রগতির জন্য মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর পৌরসভার রূপকার জননেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পির প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দেশে প্রায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৩২৭টি পৌরসভা রয়েছে। সেখানকার পৌর মেয়রদের কথা আর না-ই বললাম, সিটি মেয়রদের নিয়েও মানুষের এত আলোচনা নেই। কিন্তু সেই জায়গায় একটু ব্যতিক্রম বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর। তাঁকে গিরে রয়েছে দেশ-বিদেশে সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা। কারণ তিনি শুধুমাত্র একজন মেয়র কিংবা রাজনৈতিক নন, তিনি হলেন তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি, কর্ম ক্ষেত্রে তিনি অক্লান্ত ও ঈর্ষান্বিত ব্যক্তি, বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে তিনি অত্যন্ত স্নেহের পাত্র, ছাত্র-ছাত্রীর নিকট তিনি তাদের প্রেরণা আর বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে আগামীর সম্ভাবনা।

তৎকালীন সময়ে মোঃ আব্দুস শুকুর প্রবীণনেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিয়ানদের আশির্বাদে ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি পৌর আওয়ামীলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। গ্রাম উন্নয়ন ও সামাজিক আন্দোলনের এক বিপ্লবী হাতিয়ার তিনি। ঐতিহ্যবাহী গোলাবশাহ্ সমাজ কল্যাণ সংস্থার এক যুগের সফল সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঐতিহাসিক নানকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ছাত্রজীবন থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গিনায় ছিল তাঁর পদচারণা। তিনি তৎকালীন কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। নাট্যকর্মী মোঃ আব্দুস শুকুর দীর্ঘদিন বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের সভাপতি ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বিয়ানীবাজার সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরিসহ বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে রয়েছে তাঁর নিবিড় বন্ধন। একাধারে তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষানুরাগী ও ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিত্ব। মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর একজন পরোপকারী, সজ্জন, রুচিবোধ সম্পূর্ণ সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। দলীয় দৃষ্টিকোণ ব্যতিরেকে তিনি নিরন্তর সামাজিক এবং মানবিক চরিত্রের মানুষ। তাই সত্যিই তিনি একটু ব্যতিক্রমী। একের ভিতর সব হলে ক্রিকেটীয় ভাষায় তাকে অলরাউন্ডার বলে।

মাননীয় পৌর মেয়রের সফল নেতৃত্বে ১৬ বছরের জমানো নানাবিধ সমস্যা একে একে সমাধান হচ্ছে। সম্প্রতি মাছ ও সবজি বাজারের সমস্যার সমাধান হয়েছে। দৃশ্য-অদৃশ্যমান নানা সমস্যা নিয়েও তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে পৌরসভার ময়লা প্রসঙ্গে নানবিধ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে বলতে গেলে, পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে পৌর প্রশাসক বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই পৌরসভার ময়লা ফেলতেন। তখনোও দুর্গন্ধ হতো কিন্তু এ বিষয়ে কাউকে লিখতে দেখিনি! ময়লা যেখানে ফেলবেন স্বাভাবিক ভাবে সেখানে একটু দুর্গন্ধ হবেই, সেটা যেকোন জায়গায়ই ফেলা হোক। উদাহরণ স্বরূপ আমাদের সিলেট সিটির কথাই ধরুন, সেখানে মেয়র আরিফুল হক বাইপাসের পাশে শহরের বর্জ ফেলেন, তাতে করে পথচারি কিংবা গাড়িতে থাকা যাত্রী প্রত্যেকে একটু দুর্গন্ধ অনুভব করেন। কিন্তু কই কেউতো কোনদিন মেয়র আরিফুল হককে নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে খারাপ মন্তব্য করেন নি। শুধু সিলেট নয় গোটা দেশের বর্জ ব্যবস্থার উদাহরণ একই রকম। ইদানিং গুটি কয়েক লোক পৌরসভার ময়লা নিয়ে লিখতে গিয়ে মেয়রকে উদ্দেশ্য করে ব্যক্তিগত হেও প্রতিপন্ন করার লক্ষে কিছু অশোভনীয়, কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন, যা নোংরা প্রকৃতির মানুষের ধারাই সম্ভব। ময়লা ফেলার অন্যত্র কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় নিজস্ব জায়গায় অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। একটি বিষয় বুঝা উচিত কোন জনপ্রতিনিধি মানুষের দুর্ভোগ চান না। সব কিছুরই একটা শেষ আছে হয়তো ময়লারও একটা সমাধান হবে তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঐ লেখা গুলো রয়ে যাবে।

একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে কেন ব্যক্তিকে টানছেন? এটা কোন সমালোচনার পর্যায় পড়ে কী? এটা নিছক হিংসায় পোড়া লোকের নিন্দানুভতি। তাদের এই অভিব্যক্তির কারণ মেয়র নিজেই। তিনি নিরলস কর্ম আর জনপ্রিয়তা দিয়ে হিংসুক শ্রেণীর স্বপ্ন দিন-দিন ভেঙ্গে দিচ্ছেন। সাধারণের চেয়ে এই হিংসুকদের কাছে তিনি বেশিই জনপ্রিয়। কারণ তাঁরা সর্বদা তাঁকে নিয়েই ভাবে, তিনি কি করছেন? কোথায় যাচ্ছেন? কি খাচ্ছেন? কয়টা ছবি তোলছেন ইত্যাদি? তিনি (মেয়র) পরিবারিক কারণে তিন-চার বছর লন্ডনে ছিলেন। তবে দেশে কেন আসলেন? এমন অনেক প্রশ্ন তাদের। শুধু কি তা-ই, তারা আরো বলে পৌরসভার একজন মেয়র হয়ে দেশ থেকে দেশান্তরে, লোক থেকে লোকান্তরে তিনিই কেন সকলের অন্তরে? যাই হোক তাঁরা হিংসুক হলেও তিনি তাদেরও মেয়র। যেকোন সমস্যারই একটা সমাধান আছে। তবে স্যোসাল মিডিয়ায় আজেবাজে লিখা সংকীর্ণতার পরিচয় মাত্র। এই মিডিয়া জগতের পরিধি ব্যাপক, এখানে বিশাল মন ছাড়া ভালো কিছু লিখা সম্ভব নয়।

কারো পিতাকে গালি দিলে আপনার পিতার উপরও সে গালি পড়বে। কারো নেতাকে নিয়ে কুটুক্তি করলে আপনার নেতাকেও সমপরিমাণ কুটুক্তি শোনতে হবে। এটাই বহমান রীতিনীতি। সম্মানি লোকেরা উপরে থাকে, নীচে থেকে তাকে থু থু দিলে, সেই থু থু নিজের মুখেই পড়ে। কারো জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নীচ থেকে তাকে টেনে নামাতে গেলে তাঁর জুতা ধরে টানতে হবে, তবে লক্ষ রাখবেন সেই জুতার নীচে থাকা ময়লাটুকু যেন নিজের মুখেই না পড়ে।

স্থানীয় রাজনীতিতে মোঃ আব্দুস শুকুর এক মুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব। যারা উনার সান্নিধ্য পেয়েছেন তারা সকলেই অভিভূত হয়েছেন। সাধারণ শ্রেণী পেশার মানুষ থেকে শুরু করে সমালোচক, নিন্দুক কিংবা বিরোধীদের কাছেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় নাম মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর। বলা যায় স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সবচেয়ে ক্যারেসমেটিক লিডার। নীলকণ্ঠে হাসি মুখে দ্যুতি ছড়ানোই যেন উনার ব্রত। তিনি নিত্য বহমান তারুণ্যের হৃদয়ে। দিন শেষে গোধুলি লগ্নে আপনার স্বপ্ন জয়ের হাসিটা যেন অম্লান থাকে। আপনার সু-স্বাস্থ্য, সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

ছিদ্দিকুর রহমান
ছাত্রলীগ কর্মী

রিপ্লাই করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন